ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন পেপ গার্দিওলা

ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন পেপ গার্দিওলা

ছবি: সংগৃহীত

ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা বলেছেন, নিজের অবস্থান ব্যবহার করে তিনি একটি ভালো ও মানবিক সমাজ গড়তে চান। কারাবাও কাপের সেমিফাইনালে নিউক্যাসেলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু ফুটবল নয়, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকট নিয়েও কথা বলেন। গত সপ্তাহে স্পেনের বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি কনসার্টে অংশ নেন গার্দিওলা। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের পাশে থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের নিহত ও আহত হওয়ার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা বলেন, ‘মানব ইতিহাসে কখনো এত স্পষ্টভাবে আমরা তথ্য ও ছবি সামনে পাইনি। ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে, ইউক্রেনে যা হয়েছে, রাশিয়া, সুদানসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ- সবকিছু আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি। এসব দেখে কেউ কি প্রভাবিত না হয়ে থাকতে পারে? এখানে ডান-বাম রাজনীতি বা কে ঠিক কে ভুল, তা মূল বিষয় নয়। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে- এটাই আমাকে কষ্ট দেয়। বিষয়টি এত জটিল নয়। মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা আমাকে আঘাত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না, মানুষ এসব দেখে কীভাবে আবেগহীন থাকতে পারে। প্রতিদিন বাবা-মা ও শিশুদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। এত কষ্ট দেখেও সহানুভূতি না রাখা অসম্ভব।’

দ্য অ্যাথলেটিকের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গার্দিওলা বলেন, ‘গত ১০ বছরে এই প্রথম কেউ আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করল। মনে হয় মিডিয়া এ ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে ভয় পায়। কিন্তু যুদ্ধের দৃশ্য দেখে কি কেউ প্রভাবিত হয় না? এটা রাজনীতি নয়, এটা মানবতার প্রশ্ন।’

অভিবাসী সংকট নিয়েও কথা বলেন সিটি কোচ। বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ৯৩৩ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এ বিষয়ে গার্দিওলা বলেন, “এই মানুষগুলো বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়ে, সমুদ্রে ঝুঁকি নেয়। ঠিক বা ভুল বলার আগে তাদের জীবন বাঁচানো দরকার। কারণ এটা মানুষের জীবন।’

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও তাকে ব্যথিত করেছে বলে জানান গার্দিওলা। তিনি বলেন, ‘মানবজীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে গার্দিওলা বলেন, ‘মানুষ ও মানবজীবন রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার বিষয় নয়। মানুষ যখন যুদ্ধের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, সমুদ্রে বিপদে পড়ে, তখন আগে তাকে বাঁচাতে হবে। সে ঠিক না ভুল- এই প্রশ্ন পরে আসবে। মানুষ মারা গেলে সাহায্য করতেই হবে। পরে আমরা সমালোচনা বা মতবিরোধ করতে পারি, কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তে মানবিক দায়িত্বটাই প্রধান।’ 

প্রসঙ্গত, গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহিংসতার অভিযোগ তুলেছিল, যদিও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে। পেপ গার্দিওলা জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকবেন এবং মানবতার পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাবেন।