গণতন্ত্র ও অস্তিত্ব রক্ষায় ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জোনায়েদ সাকীর
সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেছেন, আমরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেশের গণতন্ত্র ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমরা নিজেরা ভোট জালিয়াতি করব না, কাউকেও করতে দেব না। ভোট আপনার অধিকার—সেই অধিকার প্রয়োগ করুন। ভোট প্রদান শেষে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রেই অবস্থান করবেন।
বৃহস্পতিবার সারাদিন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকী বলেন, অসংখ্য প্রবাসী সন্তান রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। সারাদেশে প্রবাসী রেমিট্যান্সে বাঞ্ছারামপুর প্রথম স্থানে রয়েছে। আমাদের টাকায় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, অথচ আমাদের রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। একসময় বাঞ্ছারামপুর থেকে একটি ইউনিয়ন বা গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতে মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হতো। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আমাদের সম্ভাবনা পিছিয়ে ছিল। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, মেঘনার ওপর সেতু নির্মিত হলে বাঞ্ছারামপুর শিল্প ও বাণিজ্যের এক বিশাল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে, বিশ্বমানের জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমাদের তরুণরা ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে কাজ করার সুযোগ পায়। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের—যেখানে তারা তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। আমাদের নদী-নালা, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হবে। অসহায় ও স্বাবলম্বী নন—এমন প্রবীণ নাগরিকদের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দিতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
সাকী বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা যেন মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে। একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে নৈতিক সমাজ—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে যদি মাথাল প্রতীক বিজয়ী হয় এবং আমাদের জোট সরকার গঠন করে, তাহলে বাঞ্ছারামপুরের ন্যায্য দাবিগুলো জোরালোভাবে আদায় করা সম্ভব হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। ২৪-এ আমাদের তরুণরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক লিয়াকত আলী ফরিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মূসা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা বশীর আপেল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মূসাসহ যুবদল, কৃষকদল, জাসাস, ছাত্রদল এবং উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীবৃন্দ।