প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইবি ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য সাইকেল র‌্যালি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইবি ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য সাইকেল র‌্যালি

ছবি: সংগৃহীত

‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’- স্লোগানকে সামনে রেখে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাইকেল র‌্যালি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। এটি কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক ধরে মদনডাঙ্গা মোড় ঘুরে একইস্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলীর নেতৃত্বে র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি ও সাংগঠনিক  সম্পাদক মোহাম্মাদ জাকারিয়া। এছাড়াও দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ এতে নেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউসুব আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে। ছাত্রশিবিরের ভিশন হচ্ছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে কোনো দুর্নীতি থাকবে না, কোনো হত্যা-খুন-রাহাজানি থাকবে না, কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না, কোনো মানুষ মজলুমের শিকার হবে না। এরকম একটি দেশ আমরা গড়তে চাই।’

তিনি  আরও বলেন, ‘সেই দেশ গড়ার জন্য যেটা সব থেকে বেশি প্রয়োজন- এমন কিছু নাগরিক প্রয়োজন বা বাংলাদেশের মানুষকে এমন হওয়া প্রয়োজন যেন তারা হবে সৎ, দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক। সৎ দক্ষ এবং দেশপ্রেমিকের সমন্বয় ঘটলেই কেবল এমন কিছু মানুষ তৈরি করা সম্ভব, যে মানুষগুলোর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে পারব।’

কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমরা যদি চায়নার কথা যদি চিন্তা করি, ৭০-এর দশকে আমরা দেখেছি চায়নার অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় সেইম ছিল। চায়না ছিল ১৬০ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয়, বাংলাদেশে ছিল ১৪০ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয়। সামান্য পার্থক্য ছিল। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল একটা পরিবর্তন হয়েছে শুধুমাত্র একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা থাকার কারণে। কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা থাকার কারণে। তো আমরা চাই যে দল ক্ষমতায় আসবে আগামীতে সেই দল যেন এরকম একটি কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করে।’

গণমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়া যেন কোনো বিশেষ দলের দালালি না করে বা সত্য গোপন না করে।’ বিগত সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি মিডিয়াকে 'ফ্যাসিবাদ' তৈরিতে সহযোগিতা না করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্র সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউসুব আলী বলেন, ‘এমন দল বা ব্যক্তিকে নির্বাচনে জয়ী করার কথা বলা হয়েছে- যারা মানুষের অধিকার রক্ষা করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশে ইনসাফ কায়েম করবে।’