হ্যানয়ের বুকে বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম বানাচ্ছে ভিয়েতনাম

হ্যানয়ের বুকে বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম বানাচ্ছে ভিয়েতনাম

ছবি: সংগৃহীত

ভিয়েতনাম বিশ্বের ক্রীড়া মানচিত্রে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজধানী হ্যানয়-এ নির্মাণাধীন ‘ট্রং ডং স্টেডিয়াম’। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই ভেন্যু নির্মিত হলে এটি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ আসনসংখ্যার স্টেডিয়াম। এমনটাই দাবি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের।

স্টেডিয়ামটির নকশা অনুপ্রাণিত প্রাচীন ‘ডং সন ব্রোঞ্জ ড্রাম’ থেকে, যা ভিয়েতনামের প্রাচীন সভ্যতার এক শক্তিশালী প্রতীক। এই ঐতিহ্যবাহী ঢোল সম্প্রদায়ের ঐক্য, শক্তি ও স্থায়িত্বের প্রতিরূপ হিসেবে বিবেচিত। সেই সাংস্কৃতিক চেতনাকেই আধুনিক স্থাপত্যের ভাষায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ট্রং ডং স্টেডিয়ামে।

নির্মাতাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি ক্রীড়াঙ্গন নয়; বরং নতুন যুগের ভিয়েতনামের পরিচয় বহনকারী একটি স্থাপত্যিক প্রতীক।

স্টেডিয়ামটি বৃহৎ ‘অলিম্পিক স্পোর্টস সিটি’ প্রকল্পের অংশ। আবাসন, ক্রীড়া অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক সুবিধাসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড। চারটি জোনে ভাগ করা এই মেগা প্রকল্পে স্টেডিয়ামই হবে মূল আকর্ষণ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস উদযাপন এবং বড় সামাজিক-রাজনৈতিক আয়োজন করা যাবে। ফলে এটি দেশীয় ও বৈশ্বিক দুই পরিসরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত রুংরাডো ১ মে স্টেডিয়াম-এর আসনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার। মরক্কোয় নির্মাণাধীন হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম-এ থাকবে আনুমানিক ১ লাখ ১৫ হাজার আসন। ট্রং ডং স্টেডিয়াম সম্পন্ন হলে এই দুটি ভেন্যুকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ স্টেডিয়ামগুলোর উদাহরণও টানা হচ্ছে। যেমন ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, চীনের বেইজিং ন্যাশনাল স্টেডিয়াম (বার্ডস নেস্ট) এবং কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম। এসব ভেন্যু নিজ নিজ দেশের জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি জোরদারে ভূমিকা রেখেছে, ভিয়েতনামও সেই পথেই হাঁটতে চায়।

স্টেডিয়ামটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিট্র্যাকটেবল (খোলা-বন্ধ করা যায় এমন) ছাদ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে এটি কেবল আকারে বড় নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আধুনিক এক স্থাপনা হয়ে উঠবে।

ভিয়েতনাম ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ, অলিম্পিক কিংবা বড় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। রাজধানী হ্যানয়কে কেন্দ্র করে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। ট্রং ডং স্টেডিয়াম তাই কেবল ইট-পাথরের নির্মাণ নয়- এটি ভিয়েতনামের আত্মপরিচয়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বৈশ্বিক মঞ্চে দৃঢ় অবস্থান গড়ার প্রতীক।