ভোটের কালি আঙুলে লেগে থাকলে অজু-নামাজ শুদ্ধ হবে কি?

ভোটের কালি আঙুলে লেগে থাকলে অজু-নামাজ শুদ্ধ হবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন চলাকালীন ভোটার শনাক্তকরণের জন্য আঙুলের নখ বা চামড়ায় ‘অমোচনীয় কালি’ (Indelible Ink) ব্যবহার করা হয়। এই কালি সহজে ওঠে না বলে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মনে প্রশ্ন জাগে- আঙুলে এই কালি থাকা অবস্থায় অজু শুদ্ধ হবে কি না এবং ওই অবস্থায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না।

অজু ও পবিত্রতার মূলনীতি

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অজুর ফরজগুলোর অন্যতম হলো নির্ধারিত অঙ্গসমূহ এমনভাবে ধোয়া, যাতে পানি সরাসরি চামড়ায় পৌঁছে। যদি চামড়ার ওপর এমন কোনো আবরণ থাকে, যা পানি ভেদ করে ভেতরে যেতে বাধা দেয়, তাহলে অজু শুদ্ধ হয় না। যেমন- নেইল পলিশ, মোম বা প্লাস্টিকজাতীয় স্তর তৈরি করে এমন বস্তু অজুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য।

তবে নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির প্রকৃতি ভিন্ন। ফকিহ ও মুফতিয়ানে কেরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কালি চামড়ার ওপর কোনো মোটা বা চর্বিযুক্ত প্রলেপ তৈরি করে না; বরং এটি চামড়ার উপরিভাগের রং পরিবর্তন করে বা রঙের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে এটি পানির প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

যেহেতু অজুর ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো পানির চামড়ায় পৌঁছানো, আর এই কালি সে পথে অন্তরায় নয়, তাই আঙুলে অমোচনীয় কালি থাকা অবস্থায় অজু করলে অজুর ফরজ যথাযথভাবে আদায় হয়ে যায়। সুতরাং এ অবস্থায় অজু সম্পূর্ণ সহিহ বা শুদ্ধ।

নামাজের বিধান

অজু শুদ্ধ হলে নামাজ আদায়ে কোনো বাধা থাকে না। কাজেই ভোট দেওয়ার পর আঙুলে লেগে থাকা অমোচনীয় কালি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই অবস্থায় নামাজ আদায় সম্পূর্ণ বৈধ।
এ ক্ষেত্রে বিষয়টি মেহেদির রঙের সঙ্গে তুলনীয়। মেহেদি লাগালে চামড়ার রং পরিবর্তিত হয়, কিন্তু কোনো আলাদা স্তর তৈরি করে না; ফলে পানি সরাসরি চামড়ায় পৌঁছাতে পারে এবং অজু শুদ্ধ হয়। নির্বাচনের কালির বিধানও তদ্রূপ।

ভোট প্রদান একটি নাগরিক দায়িত্ব। এরপর আঙুলে যে অমোচনীয় কালি লাগানো হয়, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে অজু ও নামাজের জন্য কোনো প্রতিবন্ধক নয়। অতএব, এই কালি থাকা অবস্থায় অজু ও নামাজ উভয়ই বৈধ ও শুদ্ধ।

(সূত্র: রদ্দুল মুহতার ১/১৫৪; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪২; ফাতহুল কাদির)