বিচারালয় থেকে পাহাড়ের সেবক হলেন দীপেন দেওয়ান
দীপেন দেওয়ান
বিচারকের এজলাস ছেড়েছিলেন মানুষের বিচার পাওয়ার আশায়, আর আজ তিনি পাহাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কারিগর। তিনি অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। রাঙামাটির এই কৃতী সন্তান গতকাল মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো দীপেন দেওয়ানের জন্য মোটেও সহজ ছিল না; পাড়ি দিতে হয়েছে রাজনীতির দীর্ঘ ও বন্ধুর পথ।
দীপেন দেওয়ানের রাজনীতিতে আসাটা ছিল অনেকটা নাটকীয়। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০০৫ সালে সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজের সম্মানজনক চাকরি ছেড়ে যোগ দেন বিএনপিতে। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তৃণমূলকে সংগঠিত করেন। ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী কঠিন সময়ে রাঙামাটি বিএনপির একজন অভিভাবক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। দলের প্রতি এই একনিষ্ঠতার পুরস্কারস্বরূপ তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।
শপথ নেওয়ার পর নতুন এই পার্বত্য মন্ত্রী তাঁর ভিশন পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পালনের চেষ্টা করব।
সর্বক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। অর্থনৈতিক সুষম উন্নয়ন হবে, থাকবে না কোনো বৈষম্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমি বিশেষ গুরুত্ব দেব। আমি পার্বত্যবাসীকে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই।’
দীপেন দেওয়ানের রাজনীতির শিকড় অনেক গভীরে।
তাঁর প্রয়াত পিতা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা। পিতার সেই আদর্শ এবং জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে আজ দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।