আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের জন্য তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা স্থানীয় সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাস শুরুর একদিন সোমবার সন্ধ্যায় কোনও কারণ না জানিয়ে আল-আকসা মসজিদের উঠোনের ভেতর থেকে ইমাম শেখ আল-আব্বাসিকে আটক করে দখলদার বাহিনী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ঘিরে ইসরায়েলের বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ জোরদারের মাঝেই মসজিদের ইমামকে গ্রেফতারের এই ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম, খতিব ও মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি উগ্রপন্থীদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারের কয়েক ঘন্টা আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শেখ আল-আব্বাসিকে এক সপ্তাহের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বলে জানিয়েছে ইসলায়েলি সংবাদ মাধ্যমগুলো। তবে আব্বাসির দাবি, আগে তাকে নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি।
এই পদক্ষেপকে গভীরভাবে বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করে শেখ আল-আব্বাসি আরও জানান, গত বছর একটি সড়ক দুর্ঘটনা গুরুতর আহত থেকে সেরে ওঠার পর সম্প্রতি তিনি তার দায়িত্বে ফিরে আসার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী রোশানলে পড়েছেন তিনি।
এদিকে ইমাম আল-আব্বাসিকে গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, গ্রেফতারকৃত ইমামের মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিল ইসরায়েল। তাকে গ্রেফতারের এই ঘটনা আল-আকসায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং ইমামদের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলার শামিল।
হামাস আরও বলেছে, ফ্যাসিবাদী দখলদার সরকারের পক্ষ থেকে আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতার ক্রমবর্ধমান লঙ্ঘন, মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ, রমজান মাসের প্রস্তুতিসংক্রান্ত কার্যক্রমে বাধাদান এবং বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি—এসবই মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ ও ইহুদিকরণ; সেখানে ইবাদতের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং সময় ও স্থানগত বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ।
এছাড়াও জেরুজালেমে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি জনগণ, পশ্চিম তীরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় অবস্থান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
প্রসঙ্গত, পবিত্র রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি সাধারণত আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে যান। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সামরিক চেকপয়েন্টগুলোতে বিধিনিষেধ কঠোর করেছে, যার ফলে পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের জেরুজালেমে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
গত দুই বছরে খুব কম সংখ্যকই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জারি করা পারমিট পেয়েছে, যা ফিলিস্তিনিরা বলেছে যে পাওয়া কঠিন। দখলদার কর্তৃপক্ষ এই বছরও রমজানের জন্য কোনও বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেনি।
জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি সাবরি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ইসরায়েলি সরকার আল-আকসা মসজিদ সম্পর্কে তাদের আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছি যে ইসরায়েল এই স্থানের ওপর তাদের দাসত্ব চাপিয়ে দিতে এবং ইসলামী ওয়াকফের কর্তৃত্ব হ্রাস করতে চাইছে।’
জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের এই আগ্রসন বন্ধে আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তিনি আরও বলেন, ‘জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য আরব ও মুসলিম নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে’।
উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ইহুদিরা এই এলাকাটিকে টেম্পল মাউন্ট বলে, দাবি করে যে এটি প্রাচীনকালে দুটি ইহুদি মন্দিরের স্থান ছিল। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেমের এবং ১৯৮০ সালে পুরো জেরুজালেম দখল করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও জেরুজালেমকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
সূত্র: টিআরটি ওয়াল্ড