চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত

চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত

প্রতিকি ছবি

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় এক যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

আহতরা হলেন- মো. উমর ফারুক ভূঁইয়া ও তার চাচাতো ভাই তাইফুল হক। উমর ফারুক ভূঁইয়া কুমিল্লার ১ নম্বর দক্ষিণ কালিবাজার রাইচো ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা এবং আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে। আহত তাইফুল হক হলেন শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালির বাজার এলাকায় মাসুম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তার এ কর্মকাণ্ডে বাধা দেন যুবদল নেতা উমর ফারুক ভূঁইয়া। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুমের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার (১৮ ফেব্ররুয়ারি) সন্ধ্যায় উমর ফারুক ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে এসে উমর ফারুক ও তার চাচাতো ভাই তাইফুল হকের ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্ত হামলাকারীরা উমর ফারুকের কাঁধ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত তাইফুল হক বলেন, আজ (বুধবার) মাগরিবের পর আমি ও আমার চাচাতো ভাই আমাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলাম। এসময় ছাত্রলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল সন্ত্রাসী এসে আমার বড় ভাইকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। তারা আমার ভাইয়ের বাম কাঁধ ও পিঠে কুপিয়ে জখম করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়।

যুবদল নেতা উমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম কালির বাজারের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করলে আমি বাধা দিই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে চাপাতি ও সুইচগিয়ার দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে বাঁচাতে এলে আমার চাচাতো ভাই তাইফুল হকের ওপরও তারা হামলা করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা হলেন-  বল্লবপুরের আলী আজগরের ছেলে মাসুদ আল হাসান মাসুম, হাতকাটা বাইল্লা, রেন্ডি মামুন, বাইল্লার ছেলে অপু, ইউছুফ, আবুল কালাম, আনিস ও মিজান। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।