ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে : চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তাঁর ভাষায়, ‘বিচার বিচারের মতোই চলবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও আমাদের বলা হয়েছে, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।
বিশেষ করে আইনমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশা করছি, বিচার বিচারের মতোই চলবে। সরকার সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি, স্বাভাবিক গতিতেই সব কর্মকাণ্ড চলমান রাখব।
এটাই ন্যায়বিচারের দাবি। আমরা এখানে থাকি বা না থাকি, সেটি বড় কথা নয়; বিচার অবশ্যই চলমান থাকবে। সরকার সে ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে বলেই আমরা মনে করছি।’
মোট আসামি ৪৫৭, গ্রেপ্তার ১৬১ : চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে।
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে তিন দফা সংশোধন আনা হয়। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের হালনাগাদ তথ্য জানায় প্রসিকিউশন।
সেখানে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও খুন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন ১৬১ জন, পলাতক ২৯৩ জন। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে জামিনে আছেন একজন, খালাস পেয়েছেন একজন এবং মারা গেছেন একজন।
প্রসিকিউশনের তথ্য মতে, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিবিধ মামলা (মিস কেস) রয়েছে ৩৪টি। আর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে ২৪টি মামলায়। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। ওই তিন রায়ে ২৬ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে। বাকি ২১টি মামলার বিচার চলমান রয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বেসামরিক ব্যক্তি ৭৪ জন, সেনা সদস্য ২০ জন, পুলিশের ৬৫ জন এবং আনসারের এক সদস্য রয়েছেন।