সংস্কারের শপথ না নিয়ে বিএনপি গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে : বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
নাহিদ ইসলাম
সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে বিএনপি গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রিসভা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবে বলেও আমরা মনে করছি না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন।
কিন্তু তাঁর নিজের মন্ত্রিসভা এবং তাঁর দলের যেসব সংসদ সদস্য ঋণগ্রস্ত, সেই ঋণ তাঁরা কবে পরিশোধ করবেন—বাংলাদেশের মানুষ তা জানতে চায়। দুর্নীতির প্রতিরোধ নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে; নিজের দল ও মন্ত্রিসভা থেকেই করতে হবে।’
নতুন মন্ত্রিসভা পরিবর্তন বা সংস্কারের ধারায় যাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রিসভা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবে বলেও আমরা মনে করছি না। বরং বিগত আমলে যে দুর্নীতিগ্রস্ত, মাফিয়া সিন্ডিকেটভিত্তিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল, সেটারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে বলে মনে হচ্ছে।
’
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। তা সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সামনে এগোতে দিয়েছি।’
সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ থেকে বিরত থেকেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটি সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা।
নতুন বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা, তার সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি বিএনপিকে দ্রুত সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহবান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিন পক্ষের যোগসাজশে হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের বিনিময়ে যদি তাদের পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দেব।’
ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইবুনাল যে গতিতে কাজ করেছে, সেটি অব্যাহত থাকবে—এটাই আমরা আশা করি। ট্রাইব্যুনালের কোনো সেটআপে পরিবর্তন আনার আগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে। অকারণে সেটআপ পরিবর্তন করা হলে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।’