পাকিস্তানে দারিদ্র্য বেড়েছে চরম পর্যায়ে -দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী
পাকিস্তানে দারিদ্র্য বেড়েছে চরম পর্যায়ে -দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী।। ফাইল ছবি।
শুক্রবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ বিরতির পর হালনাগাদ করা তথ্যে দেখা গেছে যে গত সাত বছরে দারিদ্র্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিছুটা সফল হলেও গত কয়েক বছরে সেই ধারা পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, দারিদ্র্যের এই ঊর্ধ্বগতি পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আমূল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল গ্রামাঞ্চলেই নয়, পাকিস্তানের শহরগুলোতেও দারিদ্র্যের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, শহর এলাকায় দারিদ্র্যের হার আগে ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে ১৭.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে এই হার ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে দেশটির অধিকাংশ মানুষই জীবনযাত্রার মৌলিক মান ধরে রাখতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করেছে।
প্রাদেশিক পর্যায়ের তথ্যে দেখা যায়, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ বলে পরিচিত পাঞ্জাব প্রদেশেও দারিদ্র্য ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৩ শতাংশ হয়েছে। সিন্ধু প্রদেশে এই হার বর্তমানে ৩২.৬ শতাংশ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ৩৫.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে বেলুচিস্তানে, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পরিকল্পনামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রাদেশিক সরকারগুলোর উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিনগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও বৈষম্যের উচ্চ হার কমানো সম্ভব হয়নি।
দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি পাকিস্তানে অর্থনৈতিক বৈষম্যও আগের চেয়ে প্রকট হয়েছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের মতে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী অভিঘাত এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্তযুক্ত কর্মসূচি এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।
বিশেষ করে পাকিস্তানি রুপির চরম অবমূল্যায়নের ফলে দেশজুড়ে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, দেশকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে আইএমএফ-এর কঠিন শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া সরকারের কাছে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।