পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

সংগৃহীত

যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে কলকাতাসহ পুরো ভারতে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, গৌহাটিসহ সব বাংলাদেশি দূতাবাস ও সহকারী দূতাবাসে পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া বাংলা একাডেমির সামনে ছাতিম তলায় প্রতিবছরের মতোই দিনরাতব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভাষা ও চেতনা সমিতি। 

এদিন সকালের দিকে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বিকেলে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীসহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিধায়কসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে অবস্থিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি।
সকালে আন্তর্জাতিক গেস্ট হাউসের সামনে থেকে এই গান গেয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্বভারতী চত্বরে পরিক্রমা করে পৌঁছায় বাংলাদেশ ভবনে। অস্থায়ী শহীদ বেদী তৈরি করা হয়েছে সেখানে, ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং বহু ছাত্র-ছাত্রী।
গান, শোভাযাত্রা ও শ্রদ্ধাঞ্জলীর মধ্য দিয়ে বিশ্বভারতীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অন্যদিকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সারারাতব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। শুক্রবার বিকেল থেকেই কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া একাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হওয়া সারারাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবে নাচ, গান, কবিতা, নাটক, যাদু, বাউল, লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে প্রভাতফেরীর মধ্য দিয়ে সেই অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়।

তবে ভাষা দিবসে মিলন হলো না সীমান্তপারের দুই বাংলার। ফলে মন খারাপ নিয়েই ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে ফিরতে হয়েছে ভাষাপ্রেমী মানুষদের। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল সীমান্তে নোম্যান্সল্যান্ডে দুই বাংলার মিলন ঘটে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা একে অপরের মধ্যে সৌহার্দ্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভাষা দিবসের উদযাপন করে থাকেন। দুই-দেশের মানুষ সেই সৌহার্দ্য বিনিময় দাঁড়িয়ে থেকে উপভোগ করতেন এবং দুই বাংলার মিলনের সাক্ষী থাকতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছর থেকে চিত্রটা বদলেছে। ২০২৫ সালে দুই বাংলার মিলন হয়নি নোম্যান্সল্যান্ডে। এ বছরের দৃশ্যটাও একই রয়ে গেল। তবে গত বছর ভারতীয় ভূখণ্ডে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে ভাষা দিবস উদযাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর সেই আয়োজনও নেই। আর তাতেই মন খারাপ ভাষাপ্রেমী মানুষদের। দূর দূরান্ত থেকে যারা দুই বাংলার মিলন দেখতে এসেছিল তারা ফ্যাকাসে মুখ নিয়েই বাড়ি ফিরছেন। দুই বাংলার মিলন দেখতে না পেয়ে ভারাক্রান্ত গলায় তাদের প্রত্যাশা আগামী দিনে দুই বাংলার মিলন ঘটবে।