বাণিজ্যিক লেবু চাষে সাফল্য বছরে বিক্রি ১৫ লাখ টাকা

বাণিজ্যিক লেবু চাষে সাফল্য বছরে বিক্রি ১৫ লাখ টাকা

সংগৃহীত ছবি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম হলো কচুয়া, পাশেই নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। মেঠোপথ ধরে একটু এগোলেই বাতাসে ভেসে আসে লেবু ফুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ। রাস্তার দুই পাশজুড়ে সবুজে মোড়া বিশাল বাগান। গাছভর্তি লেবু আর নতুন ফুলে ছেয়ে থাকা ডালপালা যেন জানিয়ে দেয় এ গ্রাম এখন শুধু গ্রাম নয়, ‘লেবুর গ্রাম’।

গঙ্গাচড়া ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার আট একর জমিজুড়ে ২০১৮ সালে গড়ে ওঠে বাণিজ্যিক লেবুবাগান। উদ্যোক্তা কুমিল্লার বাসিন্দা লন্ডনপ্রবাসী ফজলে এলাহি বাবু। বর্তমানে বাগানে রয়েছে প্রায় চার হাজার ৪০০টি লেবুগাছ।

বাগানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বছরে অন্তত ১৫ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হয় এখান থেকে।

বাগানে নিয়মিত কাজ করেন ১০ জন শ্রমিক। প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় শ্রমিকরা নিড়ানি দেওয়া, সার প্রয়োগ, কীটনাশক স্প্রে ও সেচের কাজ করেন। শ্রমিক লুত্ফর রহমান ও রাশেদ ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরেই তাঁরা এখানে কাজ করছেন। এই বাগানই তাঁদের আয়ের প্রধান ভরসা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে অসংখ্য লেবু। বাগানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সুগন্ধ। এরই মধ্যে রমজান মাস শুরু হওয়ায় লেবু বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি লেবু ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মালিক প্রবাসে থাকায় বাগানটি লিজ নিয়ে দেখভাল করছেন নীলফামারীর রাসেল মিয়া ও রফিকুল ইসলাম।

তাঁরা জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম এক বছরের জন্য ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকায় বাগানটি লিজ নেন। সে বছর ৯ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবারও তিন বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকায় লিজ নেওয়া হয়েছে। গত চার মাসেই বিক্রি হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকার লেবু। তিন বছরে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন তাঁরা। এই বাগানের লেবু রংপুর ও নীলফামারীর বড় বাজার হয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, রংপুর অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ খুব বেশি নেই। তবে গঙ্গাচড়ার এই বড় বাগানটি সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে।