চড় মারার প্রতিশোধ নিতেই দাদি-নাতনি খুন করেন শরিফুল

চড় মারার প্রতিশোধ নিতেই দাদি-নাতনি খুন করেন শরিফুল

সংগৃহীত ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি ও নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। যৌন হয়রানির প্রতিবাদে চড় মারার প্রতিশোধ নিতেই এই জোড়া খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার শরিফুল পেশায় ট্রাকচালক এবং নিহত জামিলা আক্তারের (১৬) দূরসম্পর্কের চাচা।

পুলিশ জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শরিফুল জামিলাদের বাড়িতে যান। সে সময় দাদি বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন তিনি। এতে জামিলা প্রতিবাদ করে তাকে চড় মারেন। ওই ঘটনার জের ধরেই শরিফুল প্রতিশোধ নওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের জানায়, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শরিফুল আবারও ওই বাড়িতে যান। প্রথমে আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলে দাদি সুফিয়া খাতুন (৬৫) তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুল একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়ার মাথায় আঘাত করেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার করেন। তখন শরিফুল নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি দিয়ে জামিলার মাথা ও কপালে আঘাত করেন।

এরপর জামিলাকে টেনে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির উঠানে দাদির রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেতে নাতনির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ওই দিন রাতে নিহতের বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নামে জেলা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাতেই শরিফুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

রবিবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, অভিযুক্ত শরিফুল নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সেখান থেকেই ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রতি তার কুদৃষ্টি তৈরি হয়। একপর্যায়ে অনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়ে এবং চড় খাওয়ার অপমান থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। প্রয়োজন হলে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, একটি হাতুড়ি ও অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/সুজন