‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন যুগোপযোগীকরণ জরুরি’
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বিদ্যমান আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এ মতামত উঠে আসে।
আলোচনায় জানানো হয়, দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করলেও তাদের প্রায় অর্ধেক রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাষ্ট্রীয় হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিবন্ধনবিহীন নাগরিকরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন, যা শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণ ব্যাহত হয়।
বর্তমান আইনে নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত পরিবারের ওপর ন্যস্ত; স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়। অথচ দেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনব্যবস্থা না থাকায় অনেক জন্ম নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধনব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার সহযোগিতা ছিল গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।