ফটিকছড়িতে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের হাতাহাতি
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বেতনসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সরকারি অফিসে দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন কাণ্ডে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন তাঁর বেতনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে দুজন হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
অফিসের ভেতরে এমন হট্টগোল ও মারামারির খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি দপ্তরের ভেতরে একজন কর্মকর্তা এবং একজন শিক্ষকের এমন মারামারির খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে—আমরা যারা মবের শিকার হয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলাম, তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা যাবে না। আমি বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি আমাকে নানাভাবে হয়রানি করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এটি কোনো সরকারি কর্মকর্তার আচরণ হতে পারে না।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা দাবি করছেন। আমরা তাকে বলেছি, ছুটি মঞ্জুর করিয়ে আনতে। তিনি তা না করে অফিসে এসে সরকারি নথিপত্র নষ্ট করেন এবং মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভুল-বোঝাবুঝি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে।