কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় মানুষ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে: সেলিম উদ্দিন

কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় মানুষ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে: সেলিম উদ্দিন

কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় মানুষ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে: সেলিম উদ্দিন।। ছবিঃ সংগৃহিত।

রাজনীতিকে শুধু রাজনীতি নয় বরং আর্ত-মানবতার মুক্তি ও গণমানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করতে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সকলকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি আজ শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০ টায় রাজধানীর উত্তরার আজমপুরের বিডিআর মার্কেটে উত্তরা জামায়াত আয়োজিত গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে ‘ইচ্ছে পুরণ’ কর্মসূচি পালনকালে এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী দিনে ২৫ জন অসহায় মানুষকে তাদের ইচ্ছামত কেনাকেটা করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং উত্তরা জামায়াত এ ব্যয় পুরোপুরি নির্বাহ করে। কর্মসূচি চলাকালে মহানগরী আমীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন এবং এ আনন্দঘন পরিবেশ দেখে উচ্চসিত হোন এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালার শুকরিয়া আদায় করেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, উত্তরা পূর্ব থানা আমীর মাহফুজুর রহমান, উত্তরা ১ নং ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী মাহফুজার রহমান, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমীর কামরুল হাসান ও বদিউজ্জামাল বকুল প্রমূখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, আল্লাহ মানুষকে আত্মপুঁজা ও নিজেকে নিয়ে বিভোর থাকার জন্য দুনিয়াতে প্রেরণ করেন নি বরং খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। কালামে হাকীমে এসেছে, তোমরাই সর্বোত্তম জাতি মানুষের কল্যাণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। মূলত, প্রান্তিক শ্রেণির জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী সহ সকল নাগরিক সার্বিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই মানুষের মুক্তির জন্য আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি ‘ইচ্ছে পূরণ’ কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, ‘সমাজের অসহায় মানুষ যাতে মূল ধারার জনগোষ্ঠীর সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্যই আমরা এমন জনহিতকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আজ আমরা ২৫ জনকে সে কর্মসূচির আওতায় ইচ্ছেমত ঈদের বাজার-সওদা করার সুযোগ দিয়েছি। আমাদের এ ইতিবাচক কর্মসূচি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে-ইনশাআল্লাহ। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঈদকে আনন্দঘন করতে সকল রাজনৈতিক দল সহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব। আন্তরিক হলে এটি কোন কঠিন কাজ নয়। হাদিসে রাসূল (সা.)-এ এসেছে, যে ব্যক্তি নিজে পেট পুরে খায় অথচ প্রতিবেশীরা অভূক্ত থাকে সে মুমিন নয়। তাই আমরা মানুষের দুর্দশা লাগবে মহানগরী জামায়াতের পক্ষ থেকে দারিদ্রবিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এতে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। তিনি ডিএনসিসি নতুন প্রশাসকের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদায়ি প্রশাসক ১ হাজার ২শ কোটি টাকা রেখে যাওয়ার কথা বললেও নতুন প্রশাসনের পক্ষে ২৫ কোটি টাকার স্থিতির কথা জানানো হচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে জরুরি তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তিনি একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্মন্ন ডিএনসিসি গড়তে অবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের আহবান জানা।