ভোলায় বাস শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

ভোলায় বাস শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

ছবি: সংগৃহীত

ভোলার চরফ্যাশনে বাস শ্রমিক ও সিএনজি চালকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ভোলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সোমবার সকালে চরফ্যাশনের টিবি স্কুলের সামনে সিএনজি চালকদের সাথে সংশ্লিষ্ট একদল ব্যক্তি একটি বাস আটকে চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। একই সময়ে চরফ্যাশন বাজারের মালিক সমিতির বাস ডিপো থেকে গাড়ি বের করে দিয়ে সেখানকার বাস কাউন্টার ভাঙচুর ও সুপারভাইজারকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরপরই উত্তেজিত বাস শ্রমিকরা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।

বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায়ই সিএনজি চালকরা তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হেনস্তা করেন। এর একটি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস চালাবেন না। একই সঙ্গে তারা মহাসড়কে সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। ভোলা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিএনজি চালকরা তা অমান্য করছেন। তারা তুচ্ছ ঘটনায় প্রায়ই আমাদের চালক ও হেলপারদের মারধর করেন।

এদিকে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাকসুদুর রহমান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাস শ্রমিকদের মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। সিএনজির কেউ ডিপো থেকে বাস বের করে দেয়নি; বরং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করায় সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে হঠাৎ এই বাস ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় উভয়ই ব্যয় হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

ভোলা শহর ও যানবাহন শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল গণি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সড়ক অবরোধ সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে বাস ও সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।