রংপুরে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গৃহবধূর আত্মহত্যা

রংপুরে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গৃহবধূর আত্মহত্যা

রংপুর

রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৬ মাস বয়সী শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজাপুর এলাকার একটি পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটন ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। নিহত গৃহবধূর স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং পেশায় একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানি।

সীমিত আয়ে কোনোমতে চলছিল তাদের সংসার।

পরিবারটিতে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান ছিল। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজো মেয়ে (১২) এবং ১৬ মাস বয়সী ছোট ছেলে জয়দীপ ঘোষ মা-বাবার সঙ্গেই বসবাস করত।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শনিবার বিকেলের কোনো এক সময় গৃহবধূ সুচনা ঘোষ (৪১) তার ছোট ছেলে জয়দীপ ঘোষকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

অনেকক্ষণ ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে বিষয়টি তারা জানতে পারেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

সুরতহাল শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। প্রতিবেশীদের অনেকে ধারণা করছেন, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও পারিবারিক অশান্তির কারণে হতাশা থেকেই ওই গৃহবধূ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাদের মতে, সংসারের চাপ, অর্থনৈতিক সংকট ও মানসিক অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে নিহত গৃহবধূর স্বামী ভিন্ন দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় চিকিৎসাও করানো হয়েছিল। কিন্তু এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন বলেও জানান।

এদিকে পুলিশ বলছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা মানসিক অসুস্থতা কোনটি এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।

রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানকে হত্যার পর ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে ‘

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। পারিবারিক কলহ, মানসিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় একটি ইউ ডি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’