নিকলীতে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা, উচ্ছ্বসিত হাওরের কৃষকরা

নিকলীতে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা, উচ্ছ্বসিত হাওরের কৃষকরা

সংগ্রহীত ছবি

বহু বছর পর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আবারও শুরু হলো খাল খনন কর্মসূচি। দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খাল পুনঃখননের উদ্যোগে হাওরের কৃষকদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন আশার সঞ্চার। আর এ মাহেন্দ্রক্ষণ এলো এদেশে খাল খনন করে আলোচিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নিকলী কলেজ মাঠ সংলগ্ন আরিবিলের খাল খননের মাধ্যমে জেলায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘এ দেশে অনেক সরকার এসেছে, অনেক মন্ত্রী-এমপি দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু গ্রামের প্রান্তিক খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ—কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক ও অটোচালকদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর জনবান্ধব কর্মসূচি খুব বেশি দেখা যায়নি। আজ যদি আমরা গ্রামীণ অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে না পারি, যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই, তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃত অর্থে দেশ এগোতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গ্রামের মানুষের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম। গ্রাম থেকেই এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে এক হাজার দশটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডও চালু করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচি শুধু লোক দেখানোর জন্য নয়। নদী-বিলের সঙ্গে সংযোগ রেখে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

খাল খননের মাধ্যমে এলাকার কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।’

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংদস সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, 'পানি আমাদের প্রাণ। পানি আমাদের জীবন। পানি খেয়ে আমরা বাঁচি, এই পানি দিয়ে ফসল উৎপাদন হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি অঙ্গীকার করেছিলেন ক্ষমতায় গেলে আবার খাল খনন কর্মসূচি চালু করবেন। ক্ষমতায় যাওয়ার মাস না পেরোতেই তিনি খাল খনন শুরু করে দিয়েছেন।’

সংসদ সদস্য ইকবাল আরো বলেন, 'আমার এলাকার একটি খালকে শুরুতে খননের জন্য অন্তর্ভূক্ত করায় আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিকলীবাসীকে সম্মানীত করেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলাবাসীকে সম্মানিত করেছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই আমরা। তিনি জনগণের কাছে যেসব অঙ্গীকার করেছেন আগামী দিনে নিশ্চয়ই এসব বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নিকলী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার বেলা ১১টায় নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন— কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু।

অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া থেকে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের দৃশ্য ডিজিটাল স্ক্রিনে দেখানো হয়।

অনুষ্ঠান শেষে মাঠসংলগ্ন আরিবিল খালে কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে নিকলী উপজেলার খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। এ সময় স্থানীয় মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এরপর শতাধিক শ্রমিক খাল কাটা শুরু করেন।

খাল খননের কাজটি বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুরুতে খালটির ৬০০ মিটার খনন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনে বলেন, ‘আগামী ৩০জুনের মধ্যে এর খনন কাজ শেষ হবে। প্রথমে শ্রমিকরাই কাজ করবেন। প্রয়োজনে খননকাজে যন্ত্র লাগানো হাতে পারে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পানির কোনো প্রবাহ ছিল না। এ খালটি খননের পরে আশপাশের অন্তত পাঁচ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বন্যার ঝুঁকি কমবে। জলাবদ্ধতাও দূর হবে।’

হাওরের কৃষক আজমত আলী বলেন, 'খালটি খনন হলে খুব উপকার হবে। এ খালটি ভরাট হয়ে গেছে বহুবছর আগে। সেচের জন্য খুব ভোগান্তি পোহাতে হয় সবসময়। এখন যদি সারা বছর পানি থাকে। তাহলে সেচের পাশাপাশি বহুবিদ সুবিধা হবে। ফসল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজের খরচ কিছুটা কমবে।’