গ্রেপ্তার এড়াতে প্রেস ক্লাব গঠন, তবু রক্ষা পেলেন না শ্রমিক লীগ নেতা
সংগৃহীত ছবি
গ্রেপ্তার এড়াতে প্রেস ক্লাব গঠন, হন সেই প্রেস ক্লাবের সভাপতি। তবে এসব করেও রক্ষা পাননি তিনি। অবশেষে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আদালত তাকে কারাগারেও পাঠিয়েছেন।
বলছিলাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব গঠন করা শ্রমিক লীগ নেতা চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটুর কথা।
তিনি সালথা উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।
রবিবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরে সালথার আমলি আদালতে হাজির হলে ওই আদালতের বিচারক কৃষ্ণা বালা টুটুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জসীমউদ্দীন মৃধা। তিনি বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
এর আগে টুটু চৌধুরীকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে একটি হোটেলে কয়েকজনকে নিয়ে সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব নামে নতুন একটি সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। ওই কমিটিতে টুটু চৌধুরীকে সভাপতি এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামকে সম্পাদক করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ১৮ সদস্যের ওই কমিটিতে অধিকাংশ সদস্যের সাংবাদিকতার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তাদের মধ্যে কেউ যুবলীগ, কেউ ছাত্রদল, আবার কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে সদস্য বানানোর অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টুটু চৌধুরী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করতেন। এ ছাড়া মাটি-বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার বাণিজ্য ও থানাকেন্দ্রিক দালালির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর সম্পদ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে টুটু চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র হত্যার গ্রেপ্তার এড়াতে এক ছাত্রলীগ নেতা নিয়ে সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব গঠন করেন চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটু। তিনি ওই প্রেস ক্লাবের সভাপতি হয়ে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।