গাইবান্ধায় ঝড়ে লন্ডভন্ড ৫ শতাধিক বাড়িঘর, ৯ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন

গাইবান্ধায় ঝড়ে লন্ডভন্ড ৫ শতাধিক বাড়িঘর, ৯ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন

সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। বিভিন্ন স্থানে উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের নয়টি খুঁটি। এতে উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের নয়টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। 

মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। 

এর আগে, সোমবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড়ে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগেরদিন রবিবার রাতেও এই উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড়ে সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ, চকরহিমাপুর, খামারপাড়া, মাদারপুর ও দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর, রামনাথপুর ও দুর্গাপুর বেশ কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে কাঁচা-পাকা ও টিনশেড ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এছাড়া, অনেক গাছপালা ঘরের ওপর ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, কোথাও আবার হেলে পড়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে এই এলাকার ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি লন্ডভন্ড হয়। ফলে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার পরিবার।

কৃষি বিভাগ জানায়, এই ঝড়ে উপজেলার ৩৯৯ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সাহেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হলো। কিছু বোঝার আগেই চোখের সামনে ঘরের চাল উড়ে গেল। দুটি বড় গাছ আমার শোবার ঘরের ওপর পড়ছে। অল্পের জন্য জানটা বাঁচলেও এখন ছেলেমেয়ে নিয়া মুশকিলে পড়ি গেছি।

একই এলাকার ষাটোর্ধ্ব মরিয়ম বেগম বলেন, দুইদিন ধরি খালি ঝড়। শিলাবৃষ্টিতে ঘরের টিন ফুটা হয়্যা গেছে।

রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই দফায় ঝড়ে ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন থেকে চার শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবারের থাকার ঘর না থাকায় তারা অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বুলু মিয়া জানান, ঝড়ের সময় তার ওয়ার্ডের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্কুল টেকনিক্যাল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ইটের দেয়ালও ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির চালা, কাঠ ও বাঁশ ছিটকে পড়ে আছে জমিতে। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভবন।

গোবিন্দগঞ্জ জোনের পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার রাশেদ আব্দুল্লাহ জানান, ঝড়ে রাজাহার ইউনিয়ন এলাকায় আমাদের দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং সাত থেকে আটটি খুঁটি হেলে পড়েছে। 

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনের দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।