আনন্দ-বেদনার ঈদ ও শহীদ জিয়ার বেঁচে থাকা

আনন্দ-বেদনার ঈদ ও শহীদ জিয়ার বেঁচে থাকা

সংগ্রহীত ছবি

গ্রেগরীয় দিনপঞ্জি অনুযায়ী দিনের সূচনা হয় রাত ১২টায়, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও বহুল ব্যবহৃত। অন্যদিকে বাংলা ক্যালেন্ডারে দিনের সূচনা সূর্যোদয় থেকে এবং আরবি তারিখ গণনা শুরু সূর্যাস্তের পর। আরবি মাসের সম্পর্ক চাঁদের সঙ্গে। সে কারণে আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদ মুবারক। এবার ঈদ অনেকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকার, নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণ। যাকে চিরদিনের জন্য দেশান্তরী করা হয়েছিল, তিনিই এখন প্রধানমন্ত্রী।

যাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তারা এখন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলে। যাদের রাজাকারের সন্তান, নাতিপুতি বলা হয়েছিল তারাও বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। আর যিনি বা যারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন, তারা এখন দেশান্তরী। সেই সঙ্গে নতুন বিশ্ব-পরিস্থিতিতে বোমা-বারুদের আগুনে পুড়ছে গোটা পৃথিবী।

কারও সম্পদ পুড়ছে, কারও স্বপ্ন ও সম্ভাবনা পুড়ছে। কেউ মারছে, কেউ মরছে। কেউ জ্বলছে, কেউ জ্বালাচ্ছে। কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে। কী ভয়ানক বৈচিত্র্য চারদিকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রভাব অনেক বেশি। একজন দেশপ্রেমিক, সৎ ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি আজও দেশের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত। জনমনে তিনি বেঁচে আছেন তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে। দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি ১৯৭৭ সালে শুরু করেন খাল খনন কর্মসূচি। সে সময় এ কর্মসূচি দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কৃষক উপকৃত হয়েছিল। সেই পথ ধরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার শুরু করলেন খাল খনন। ৪৯ বছর পর দেশবাসীর সামনে আবার ফুটে উঠল শহীদ জিয়ার স্মৃতি। নতুন করে স্পষ্ট হলো, সততা ও কর্মের জন্য তিনি এখনো বেঁচে আছেন দেশবাসীর হৃদয়ে।

দিনপঞ্জি নতুন সরকারে যাঁরা মন্ত্রী, এমপি হয়েছেন ঈদে তাঁরা যাঁর যাঁর নির্বাচনি এলাকায় যাবেন, জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন, এটাই স্বাভাবিক। মন্ত্রী, এমপি বা সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর জন্য এবারের ঈদ সত্যি আনন্দের। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর এ দলটির নেতা-কর্মীদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। বছরের পর বছর ছিলেন বাড়িছাড়া। মামলা-হামলায় নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন ছিল আতঙ্কিত। সেসব মানুষ এবার নির্বাচনি বিজয়কে সঙ্গী করে ঈদে আনন্দ করবেন। গত বছরের ঈদও অনেকটা মুক্ত পরিবেশেই হয়েছে; তবে গণতান্ত্রিক আবহাওয়া ছিল গুমোট। গণতন্ত্রের অন্যতম অনুষঙ্গ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি না, হলে কখন কীভাবে হবে, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর কারও জানা ছিল না। সে কারণে গত বছরের ঈদ মুক্ত পরিবেশে হলেও চাপমুক্ত পরিবেশ ছিল না। এবার নতুন সরকার, নতুন প্রত্যয় এবং নতুন প্রত্যাশায় দেশবাসী ঈদের আনন্দে সময় কাটাবে। ঈদের জন্য সাত দিনের সরকারি ছুটি। সংবাদপত্রেও পাঁচ দিনের ছুটি। সংবাদপত্রে এত বেশি দিনের ছুটি একসময় অকল্পনীয় ছিল। অবশ্য মুদ্রিত গণমাধ্যমে পাঁচ দিনের ছুটি হলেও অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া ও ইলেকট্র্রনিক মিডিয়া যথারীতি চালু থাকবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, চুক্তিভিত্তিক কিছু সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। এসব নিয়োগের আগে দলীয় ফোরামে বা গণমাধ্যমে অনেক রকম আলাপ-আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো আলোচনাই বাস্তবে মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নিজের বিচার-বিশ্লেষণে যেটা ভালো মনে করেছেন সেই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন। বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলের প্রধান হিসেবে তিনি স্বভাবতই সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। এটা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি যেহেতু সরকার চালাবেন, সে কারণে কে কোন কাজের উপযোগী, কাকে দিয়ে কোন কাজ সম্ভব, কে সৎ, কে অসৎ, কে ত্যাগী, কে সুবিধাবাদী সব খবরই তাঁর কাছে আছে। আরও হয়তো কিছু নিয়োগ হবে, সেগুলোও তাঁর পছন্দের তালিকা থেকেই হবে। তাই বলে সারা দেশের লাখ লাখ নেতা-কর্মী কি তাঁর পছন্দের তালিকায় নেই? হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। তবে দখলদার, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ, প্রতারক ছাড়া সব নেতা-কর্মীই তাঁর পছন্দের তালিকায়। সবাইকে যেহেতু তিনি মন্ত্রী, এমপি বানাতে পারবেন না; সে কারণে সবার দায়িত্ব হলো তারেক রহমানের দূত হিসেবে দেশবাসীর সেবা করা। কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফে যেন কোনোরকম ঘাপলা না হয়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেন ধান্দাবাজি না হয় সেদিকে নজর রাখা। দলের পদপদবি ব্যবহার করে দখলদারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি যেন কেউ করতে না পারে সেদিকে কড়া দৃষ্টি রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল কর্মীর কর্তব্য। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এটা জোরালো ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে; তা যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমান এবং তাঁর দলের এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন এবং সময় মেনে চলাফেরা করছেন। এসব বিষয় যদি দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী মেনে চলেন তাহলে দল উপকৃত হবে। দল উপকৃত হলে দেশবাসী উপকৃত হবে; আর দেশবাসী উপকৃত হলে সবার মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তা না করে জনগণের ওপর দাদাগিরি করার চেষ্টা করলে জনগণ এখন আর কাউকে ছাড় দেবে না। জুলাই বিপ্লব সেই ক্ষেত্রটা তৈরি করে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে আমাদের দেশের প্রায় কোটি মানুষ কর্মসূত্রে বসবাস করছেন। কেউ চাকরি করছেন, কেউ ব্যবসা, কেউ স্থায়ী, কেউবা অস্থায়ী। অনেকেই কয়েক লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে গেছেন। আমাদের এই প্রবাসী ভাইবোনদের অবস্থা এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাঁরা প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুঝুঁকিতে ও কর্মচ্যুতির আশঙ্কায়। বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। কারও লাশ এসেছে, কারোটা দেশে আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী এই বিপুল কর্মীবাহিনী এখন বলতে গেলে বেকার। যুদ্ধের কারণে কাজ বন্ধ। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তাঁরা দেশে ফিরতে পারছেন না। কিন্তু দেশে তাঁদের স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা, ভাইবোন সবার ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। তাঁদের কারও মনে ঈদের আনন্দ নেই। কবে কীভাবে তাঁরা তাঁদের স্বজনদের জীবিত ফিরে পাবেন, সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ভরসা নেই। আমরাও দোয়া করি, আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের যেন মহান আল্লাহ নিরাপদে রাখেন, ভালো রাখেন। তাঁদের কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। কোনো বোন যেন বিধবা না হন, কোনো সন্তান যেন বাবা-মাহারা না হন।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে অর্ধশতাধিকবার নহর বা ঝরনাধারার কথা বলেছেন। পবিত্র জান্নাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাজরি মিন তাহতিহাল আনহার’ অর্থাৎ ‘যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত’। জান্নাতের সৌন্দর্য ও শান্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে নদী বা ঝরনাধারার কথা বলা হয়েছে। জান্নাতের নদীগুলো হবে স্বচ্ছ পানির। দুধ, মধু ও সুস্বাদু পানীয়তে ভরপুর। এখানে নদী নহর বা ঝরনাধারাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পৃথিবীর সভ্যতায় নদী বা সমুদ্রের গুরুত্ব অনেক। প্রাচীন আমল থেকে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সভ্যতার শুরু হয়েছে কোনো নদী বা সমুদ্র কেন্দ্র করে। বড় বড় শহরের পত্তন হয়েছে নদী বা সমুদ্রপাড়ে। যোগাযোগ বা বাণিজ্যও ছিল পানিপথে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন নদীর পানি মানুষ চোখ বুজে পান করত। আমাদের এ অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের খাওয়া বা ব্যবহারে পানির উৎস হিসেবে নদী, খাল, বিল বা পুকুরই ছিল ভরসা। এ পানি যখন আমরা দূষিত করতে শুরু করলাম, তখন প্রয়োজন হলো বিশুদ্ধ খাবার পানি। আর তখনই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের প্রয়োজন হলো। এখন মাটির নিচের পানিতেও টান পড়েছে। আমাদের কৃষিনির্ভর দেশের সেচকাজে পানির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হলো। সেই প্রেক্ষাপটে মাটির ওপরে পানি ধারণ করা ও সেই পানি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার প্রয়োজন থেকেই ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রহণ করেছিলেন খাল খনন কর্মসূচি। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিহর নদতীরবর্তী এলাকা উলশি-যদুনাথপুর প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষিতে ঐতিহাসিক স্বেচ্ছাশ্রমের এক অনন্য নজির। এ প্রকল্পে খাল খননের মাধ্যমে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষির বিকাশ ও সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন শহীদ জিয়া। কোদাল হাতে জনসাধারণের অংশগ্রহণে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন, যা সেই সময়ে ‘সবুজ বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পায়। এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হয়। এ প্রকল্প নিয়েই গবেষণায় পিএইচডি করেছিলেন সাবেক আমলা, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি খাল খনন করা হয়। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ হাজার কিলোমিটার। এই খালগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খনন ও পুনঃখনন করা হয়। খাল খনন ছিল এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল কৃষিতে। খালের মাধ্যমে কৃষিতে সেচের পরিধি ও পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। দেশে ১৯৭৪ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত ৩২ লাখ ২ হাজার ২৫০ একর জমি সেচের আওতায় ছিল। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ১৩০ একর জমিতে পাওয়ার পাম্প ও টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হতো। আর ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ১২০ একর জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হতো। খাল থেকে সেচ দেওয়া হতো মাত্র ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৪০ একর জমিতে। ১৯৮১ থেকে ’৮২ সালে দেশে মোট সেচের আওতায় আসা জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩৭ একর। ওই সময় খাল থেকে সেচ দেওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩ হাজার ৫১৫ একর। শুধু সেচের আওতা বৃদ্ধিই নয়, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্যমোচন ও খাদ্যসহায়তারও পথ খুলে দিয়েছিল খাল খনন কর্মসূচি। কার্যত খাল খনন কর্মসূচি একসঙ্গে অনেক সাফল্য অর্জনের একটি পরিকল্পিত কর্মসূচি ছিল। এর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে তাঁর পুত্র আবার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। কর্মসূচি উদ্বোধনের দিনেই ৫৪টি খালের খননকাজ শুরু হয়েছে। আগামী বর্ষার আগে এসব খালের খননকাজ যদি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন দেখার বিষয়, এ খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সঙ্গে মাঠ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা যেন কোনো ধরনের ছলচাতুরী, প্রতারণা করতে না পারেন। খাল খনন প্রকল্প নিয়ে যেন কোনো বাণিজ্য না হয়। শুধু এ কর্মসূচি নয়, তারেক রহমানের কোনো কর্মসূচি যেন দলীয় নেতা-কর্মীদের কারণে কলুষিত না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশকে পাল্টে দেওয়ার মতো আমাদের সামনে আর কোনো নেতা নেই। তাই জাতীয়তাবাদী আদর্শের একমাত্র ঠিকানা শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করা ছাড়া আপাতত আর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

manju209@yahoo.com