গাজায় ৩০০ যুগলের গণবিয়ে
সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দের ছোঁয়া দিতে এক বিশাল গণবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুক্রবার মধ্য গাজায় আয়োজিত এই রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘গ্যালান্ট নাইট ৩’-এর অধীনে এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘জয় ড্রেস ২’। মূলত আর্থিক সংকটের কারণে যারা বিয়ের খরচ বহন করতে পারছিলেন না, সেইসব তরুণ-তরুণীদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেই এই মহতী উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে গাজার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা। এই বিশাল আয়োজনে অংশ নেওয়া দম্পতিদের হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করা হয়েছে। যারা আগে কখনো বিয়ে করেননি এবং যাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, তাদেরই এই প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবদম্পতিদের কেবল আনুষ্ঠানিকতাই সম্পন্ন হয়নি, বরং তাদের নতুন সংসার শুরু করার জন্য নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রও প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলটি সাজানো হয়েছিল গাজার ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘দাবকে’ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিস্তিনের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
অংশগ্রহণকারী অনেক দম্পতি আবেগাপ্লুত হয়ে জানান যে, দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ এবং বাস্তুচ্যুতির কারণে তাদের বিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু এই উদ্যোগ তাদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দলের প্রধান আলী আল শাহী বলেন, গাজার মানুষের এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরব আমিরাতের একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার। খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই গণবিবাহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি আমিরাতের মানবিক সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: গালফ নিউজ