থানায় আত্মসমর্পণ করলেন শিশু মাইশা হত্যার আসামি
প্রতিকি ছবি
বরিশালের বাবুগঞ্জে আগুনে পুড়ে শিশু রাইসা মনির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামি বাবা ও ছেলে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বাবুগঞ্জ থানায় তারা আত্মসমর্পণ করেন বলে ওসি শেখ মোহাম্মদ এহতেসামুল ইসলাম জানিয়েছেন।
আসামিরা হলেন মামলার প্রধান অভিযুক্ত বাবুগঞ্জের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিফাত সিকদার (১৩) ও তার বাবা জালাল সিকদার (৪৫)।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ এহতেসামুল ইসলাম বলেন, ‘পলাতক থাকার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ ও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ভোর ৬টার দিকে তারা বাবুগঞ্জ থানায় এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের পরপরই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
গত রোববার দুপুরে বাড়ির পাশে রাইসার পথরোধ করে সিফাত সিকদার। এ সময় সে কিশোরীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অগ্নিদগ্ধ রাইসা মনি জানিয়েছিল, তাকে সিফাত খারাপ কথা বলেছে। সে রাজি না হওয়ায় তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। রাইসার এ ধরনের একটি স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা রাইসাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
গত মঙ্গলবার রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কিশোর সিফাত সিকদার ও তার বাবা জালাল সিকদারকে আসামি করা হয়। গতকাল বুধবার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক আধাঘণ্টা অবরোধ করে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। এতে আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অংশ নিয়েছেন। এ সময় তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনাও করেছেন।