৫৩২ বছরের ঐতিহ্যে ইছামতির তীরে কালীপূজা, লাখো মানুষের ঢল
সংগৃহীত ছবি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগরে ইছামতি নদীর তীরে ৫৩২ বছরের ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও দুই হাজারের বেশি পাঠাবলির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে পূজা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকয় নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। বুধবার ভোরে শেখরনগর ঋষি সমিতির আয়োজনে কালীমন্দির প্রাঙ্গণে পাঠাবলির মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তবে এ উপলক্ষে বসা মেলা চলবে সপ্তাহজুড়ে।
প্রায় পাঁচ শতাধিক বছরের পুরোনো এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান আয়োজন হলেও এতে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকে আগত সাধু-সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে পূজা প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক বিরল মিলনমেলায়। পূজার প্রধান আকর্ষণ ‘পাঠাবলি’ দেখতে ভোর থেকেই হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবছর দুই হাজারেরও বেশি পাঠাবলি প্রদান করা হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে ইছামতি নদীর তীরে বসেছে বৃহৎ মেলা। শতাধিক স্টলে লোহার তৈরি দা-বটি, কুড়াল, কোদালসহ গৃহস্থালি সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের আসবাব, কুটির শিল্পপণ্য, মিষ্টান্ন ও প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, ঘোড়দৌড় এবং ছোট রেলগাড়ি ভ্রমণের ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ওসি মো. এম এ হান্নান জানান, পূজাকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ পুলিশসহ প্রায় ৩০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হয়েছে।
শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেবব্রত সরকার টুটুল বলেন, “৫৩২ বছরের এ মেলা এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। পূজাকে ঘিরে সপ্তাহব্যাপী মেলায় সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।”
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রতন চন্দ্র দাস জানান, “প্রতি বছরই এখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এবারও দুই হাজারের বেশি পাঠাবলি হয়েছে। ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার ও সম্প্রীতির এক মিলনস্থল হিসেবে এই কালীপূজা দেশ-বিদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।”