চাঁপাইনবাবগঞ্জে সালিশ চলাকালে সংঘর্ষ : ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ
সংগ্রহীত ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ও পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার দুটি বিরোধপূর্ণ গ্রুপের মধ্যে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার রানীহাটী ইউনিয়ন ও শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই গ্রুপের মধ্যে সালিশ চলছিল। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রথমে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পর উভয় পক্ষ মিলে অন্তত অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ককটেলের আঘাতে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হন এবং তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর বুধবার (২৫ মার্চ) সদর ও শিবগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ২১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন রয়েছেন।’
অন্যদিকে, শিবগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক ইউপি সদস্য মো. চান্দু ২৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কবির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমত আলীর নেতৃত্বে সালিশ শুরু হওয়ার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।