সড়কে নিভে গেল শিক্ষকের সুখের সংসার, পরিবারে মাতম
ফাইল ছবি
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর এক পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে চার সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে মাতম।
নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন (৫২)। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছেন মমিনের আরেক ছেলে আবরার (১২)। তিনি কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুফতি আব্দুল মমিন তিন ছেলে এক মেয়ের জনক। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে জামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। গ্রামে এসে জেলা শহর মাইজদীতে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে শ্বশুরদের বাসার উঠেন।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। পথেই দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাস প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মমিন ছিলেন তৃতীয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আবুল বাশার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছে। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় চলছে শোকের মাতম। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতের শ্বশুর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় তিতারকান্দিতে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে।