রংপুরের ঐতিহাসিক ‘ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও’ দিবস পালিত

রংপুরের ঐতিহাসিক ‘ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও’ দিবস পালিত

সংগৃহীত ছবি

রংপুরের ঐতিহাসিক ‘ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও’ দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ শনিবার সকালে নগরীর নিসবেতগঞ্জ ‘রক্তগৌরব’ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকার, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ স্বাধীনতার আন্দোলনে রংপুরে শহীদ হন কিশোর শংঙ্কু সমজদার। ২৪ মার্চ নিসবেতগঞ্জ এলাকায় স্থানীয় মাংস বিক্রেতা শাহেদ আলী পাকিস্তানী বাহিনীর একটি জীপ গাড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়াসহ আব্বাসী নামে এক সেনা সদস্যকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এনিয়ে গোটা শহরে উত্তেজনা বিরাজ করে। এতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ক্রোধে ফেটে পড়ে। ২৮ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে বিভিন্ন হাট-বাজার এলাকায় ঢোল পিটিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়। এতে রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র, কৃষক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব পেশার মানুষ দা, কোদাল, কুড়াল, বর্শা, বল্লম হাতে নিসবেতগঞ্জ এলাকায় একত্রিত হন। বিশেষ করে সাঁওতালরা তীর-ধনুক হাতে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে আসেন। 

বেলা ১১টার দিকে হাজার হাজার মানুষ ক্যান্টনমেন্টের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে ক্যান্টনমেন্ট থেকে জীপ গাড়িতে করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বের হয়ে মেশিনগান দিয়ে গুলি ছুড়ে। এতে ৫ মিনিটের মধ্যে পুরো নিসবেতগঞ্জ এলাকা স্তব্ধ হয়ে পড়ে, মাঠে পড়ে থাকে হাজার হাজার মরদেহ। পরবর্তীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহগুলো একখানে জড়ো করে পুড়িয়ে ফেলে হানাদার বাহিনী। তখনও যাঁরা বেঁচে ছিলেন তাদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ২৮ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাওয়ে শহীদদের স্মরণে নিসবেতগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘রক্তগৌরব’।