চট্টগ্রামে ফোরসাইট পদ্ধতিতে কর্মশালা, অভিবাসন গবেষণায় নতুন মাত্রা
সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিবাসনকে একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের অভিবাসন গবেষণার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ফোরসাইট’ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই অংশগ্রহণমূলক কর্মশালার আয়োজন করে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ)।
ফোরসাইট হলো একটি কাঠামোগত ভবিষ্যৎমুখী বিশ্লেষণ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আজকের সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই পদ্ধতির প্রথম প্রয়োগ দেশের নীতিনির্ধারণ ও গবেষণা অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিনব্যাপী চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত এই কর্মশালা পরিচালনা করেন আরএমএমআরইউ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মাহমুদুল হাসান রকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের প্রভাষক ও আরএমএমআরইউ পরামর্শক তাসনীম চৌধুরী ফাহিম এবং আরএমএমআরইউ-এর গবেষণা সহকারী সাদিকা খান সারা ও সাদিয়া হামিদ মিম।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকবৃন্দ, অভিবাসী প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উর্বশী দেওয়ান এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কর্মশালাটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়। বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণমূলক আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিবাসনকে কেবল সংকট নয়, বরং সম্ভাবনাময় অভিযোজন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করে পরিকল্পিত নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।