দেড় দশকে প্রায় ৫০০ চিকিৎসক তৈরি করেছে আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

দেড় দশকে প্রায় ৫০০ চিকিৎসক তৈরি করেছে আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

ছবি: প্রতিনিধি

দেড় দশকে পদার্পণ করলো যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেডিকেল শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে চলমান চিকিৎসক সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজটি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজটিতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ৫০ জন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে যশোর শহরের রেল রোডের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে যাত্রা শুরু হয় আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজের। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।

এখন পর্যন্ত ১৪টি ব্যাচে এমবিবিএস কোর্সে বাংলাদেশী ৭২৮ ও ভারত এবং নেপালের ১৪৬ মোট ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে মোট ৪৭৮ শিক্ষার্থী সাফল্যের সাথে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া অন্য শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বর্ষে অধ্যায়নরত রয়েছে। ভারতী ও নেপাল থেকে আগত শিক্ষার্থীরাও এই কলেজ থেকে চিকিৎসক হয়ে নিজেদের দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।

এই মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে এখানেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন অনেকে। এরকম কয়েজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী যেমন, ডা. নুসরাত জাহান, এ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসেবে মেডিসিন বিভাগে কর্মরত এবং বিভিন্ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ডা. রোজিনা আক্তার, ডা. রোকসানা হাবিব, ডা. কাজী লামিয়া আহম্মেদ, ও ডা. তাপসি তানজিমদের মত অনেকে। তারা এই প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন সময় এই মেডিকেল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অনার্স নম্বর পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ৪১ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া এফসিপিএস পার্ট-১ পাস করেছেন ২৮ জন, এমডি এমএস-এ ১৫ জন, ডিপ্লোমা ২৪ জন, এমআরসিএস ও এমআরসিওজি-তে সুযোগ পেয়েছেন ০২ জন। এই মেডিকেল কলেজের ১১ জন শিক্ষার্থী বিসিএস পাশ করে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন গাইনী এন্ড অবস এবং ডিপ্লোমা ইন অপথ্যালমোলজি কোর্স চালু রয়েছে। সেখানেও এই মেডিকেল থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়ার এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন।

ডা. ফাতেমাতুজ্জোহরা লাকী ও ডা. সানজিদা হক রুম্পা জানালেন, ভর্তির আবেদনের সময় তাদের প্রছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে রেখেছিলেন আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজকে। বর্তমানে তারা স্বাচ্ছন্দে পোস্ট গ্রাজুশেয়ন কোর্স সম্পন্ন করছেন।

প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজে একটি ছয়তলা একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হোস্টেল এবং একটি ১১ তলা ভবনে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল রয়েছে। 

ভবিষ্যতে অন্যান্য বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স চালুর পাশাপাশি হাসপাতালে, হৃদরোগীদের জরুরী সেবা, এম আর আই সুবিধাসহ চিকিৎসা সেবার পরিধি বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এখানে একশত কেবিন সংযুক্ত করে নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ চলমান বলেও জানান কর্তৃপক্ষ। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১৫তম ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম চলমান।