গাইবান্ধায় হাম উপসর্গ, হাসপাতালে ৩ শিশু চিকিৎসাধীন

গাইবান্ধায় হাম উপসর্গ, হাসপাতালে ৩ শিশু চিকিৎসাধীন

সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তিন শিশু। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান। তিনি জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ২৫ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়া গেছে, যদিও সবার মধ্যেই হামের মতো উপসর্গ ছিল।

বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে রয়েছে মালিবাড়ি ইউনিয়নের শফিক মিয়ার ছেলে মারুফ ৫ এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে সাব্বির ৬। এছাড়া তাসিন নামের আরেক শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাব্বির ৩০ মার্চ এবং মারুফ ৩১ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদেরকে হাম আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান জানান, আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তিনি রোগী ও স্বজনদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। শিশুদের জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। স্কুলগামী শিশুদের উপসর্গ দেখা দিলে বিদ্যালয়ে না যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

তিনি জানান, নিয়মিত টিকাদানই হামের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলায় জন্মের পর ৯ মাস বয়সে ১১ হাজার ৯৮০ শিশু এবং ১৫ মাস বয়সে ১১ হাজার ৯৪০ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে