ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধের প্রমাণ, ১৬ মাস পর হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেফতার

ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধের প্রমাণ, ১৬ মাস পর হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেফতার

প্রতিকি ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ মাস পর অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়ার পর নতুন করে এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে প্রধান আসামি স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকার নাজমা আক্তার তার মেয়ে জিদনী আক্তার (২৩) হত্যার অভিযোগে আটজনকে আসামি করেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী সুমন মিয়া (৩২), তার মা রুপালী বেগম ও বাবা আব্দুল হান্নান হানুসহ মোট ছয়জন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ জুলাই পারিবারিকভাবে জিদনীর সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, গরুসহ উপঢৌকন দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে আসামিরা একত্র হয়ে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন জিদনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং অন্য আসামিরা এতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি গোপন রেখে ভোরে তাকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তর করা হয়।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।