ভাঙ্গায় গৃহবধূ হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার
প্রতিকি ছবি
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরের সার্ভিস লেন থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ হাসিনা পারভিন মিনু (৪৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ফরিদপুর আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। ভাঙ্গা থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনিসুর রহমানকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার কদমতলীর রায়েরবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহতের নাম হাসিনা পারভিন মিনু। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকার ‘তুষারধারা’ আবাসিক প্রকল্পে ভাড়া বাসায় সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী আজিজুর রহমান ২০২৫ সালে মারা যান।
তদন্তে জানা যায়, আনিসুর রহমানের সঙ্গে নিহতের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে একটি মামলা চলমান ছিল। একইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল।
আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তিনি মিনুকে ফোন দেন। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গার পুলিয়া এলাকায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আনিসুর রহমান ওড়না পেঁচিয়ে মিনুকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় ফিরে যান।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকার করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইফুর রহমান অপু (২৫) বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।