পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের তার মেরামতের সময় প্রাণ গেল লাইনম্যানের
ছবিঃ সংগৃহীত।
পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের পোলে উঠে তার মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহিন আলম (৩৫) নামের এক লাইনম্যান নিহত হয়েছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা।
নিহত শাহিন তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি এলাকার জয়নুল হকের ছেলে। তার মৃত্যুর জন্য স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে ধাক্কামারা গোলচত্বর সংলগ্ন বিদ্যুতের পোলে শাহিন আলম মেরামতকাজ করছিলেন। মেরামত সম্পন্ন না হতেই লাইনে বিদ্যুৎ প্রদান করা হলে মুহূর্তেই তিনি বিদ্যুৎ স্পর্শে ঝুলে ছটফট করতে থাকেন। ১৭ মিনিট পর বিদ্যুৎ বন্ধ করে তাকে নামানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা পঞ্চগড় নেসকো কার্যালয়ের সামনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালান। সন্ধ্যায় নেসকো কার্যালয়ে নিহতের পরিবার, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর নিহত শাহিনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তারকে চাকরি দেওয়া, বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৪০ হাজার টাকা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা এবং তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে রাত ৮টায় অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
পঞ্চগড় ইলেক্ট্রিক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিফ আল মেহেদি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে শাহিনকে মেরে ফেলা হয়েছে।
এর দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। এত বড় ভুল কিভাবে হয়?’
নিহতের স্বজন খোকন হাবিব বলেন, ‘আমাদের জামাইকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছিল কাজের জন্য। তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কিভাবে লাইনে বিদ্যুৎ চালু করলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চাই, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হোক এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হোক।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ‘এ ধরনের মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ছাড়া নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত করা হবে।’