নেত্রকোনায় যে তেলে আগে চলত তিন-চার দিন, এখন শেষ একদিনে
সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনায় আগে যে পরিমাণ তেল তিন থেকে চারদিন বিক্রি করা যেত, এখন তা শেষ হচ্ছে মাত্র একদিনে বা তিন থেকে চার ঘণ্টায়। অভিযোগ উঠেছে, অনেকে কয়েকবার করে ঘুরে ঘুরে তেল নিচ্ছেন। তার ওপর কোথাও কোথাও মব সৃষ্টির ফলে পাম্পের মালিক-কর্মচারীরা আতঙ্কিত।
তবে তেল দেওয়ার সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলে সংকট হতো না বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী চালকরা।
জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার মোট ১৮টি পাম্পে এক থেকে দুইদিন পরপর তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ছয়টি পাম্পের দুই থেকে তিনটিতে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়া হয়। তবে সরবরাহ থাকলেও প্রতিদিন দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাম্প মালিক ও প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি জরুরি সেবার কথা বলে এবং মব তৈরি করে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজুর বাজারের এবিসি পাম্পের ম্যানেজার জুবায়ের আকাশ জানান, আগে যে পরিমাণ তেল তিন থেকে চারদিনে বিক্রি হতো, এখন তা একদিনও টিকছে না। প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল বা অকটেন তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, তেল দেওয়ার সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
তেল সরবরাহের সময় দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসের প্রতিনিধি মো. সারোয়ার খান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পাহারা দিয়েও সঠিকভাবে তেল বিতরণ করা যাচ্ছে না। লাইনে থাকা অনেকেই শেষ পর্যন্ত তেল পান না, কারণ জরুরি সেবার যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
একই পাম্পের আরেক কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত হিসাবে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও মজুদকারীরা এসে মব তৈরি করে জোর করে বেশি তেল নিয়ে যায়। সকাল থেকে মাইকিং করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। তারা এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে গিয়ে একইভাবে তেল সংগ্রহ করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারি যানবাহন ও প্রতিষ্ঠানে তেল দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় তাদের তা মানতে হয়। ফলে সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় তারা পাম্পে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।