ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছিল চিকিৎসকদের অবহেলায়: প্রসিকিউটর

ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছিল চিকিৎসকদের অবহেলায়: প্রসিকিউটর

ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছিল চিকিৎসকদের অবহেলায়: প্রসিকিউটর।। ফাইল ছবি।

ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে শুরু হওয়া নতুন বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁর চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘চরম আনাড়িপনা’ ও ‘অবহেলা’র বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সরকারি প্রসিকিউটররা। মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার সান ইসিদ্রো আদালতে পুনরায় শুরু হওয়া এই বিচারে দাবি করা হয়েছে, সঠিক সময়ে সামান্য ব্যবস্থা নিলে আজও হয়তো বেঁচে থাকতেন এই কিংবদন্তি।

আদালতে প্রসিকিউটর প্যাট্রিসিও ফেরারি বলেন, “ম্যারাডোনা তাঁর প্রকৃত মৃত্যুর অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে থেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিলেন। ওই শেষ সপ্তাহে কেউ যদি তাঁকে সামান্য একটি গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সে করেও কোনো ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন, তবে তাঁর জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল।”

তিনি ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত দলকে ‘একগুচ্ছ অপেশাদার’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁদের কার্যক্রমকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে বর্ণনা করেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। এর আগে তাঁর মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। গত বছর এই মামলার প্রথম বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও একজন বিচারক এই মামলা নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর মঙ্গলবার সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে নরহত্যার অভিযোগে আবারও এই বিচার শুরু হলো। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অগাস্টিনা কোসাশভ এবং বেশ কয়েকজন নার্স। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ানিন্নার আইনজীবী ফার্নান্দো বারল্যান্ডো আদালতে একটি ‘স্টেথোস্কোপ’ প্রদর্শন করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “চিকিৎসা বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্রটি ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত একবারের জন্যও ম্যারাডোনার বুকে ঠেকানো হয়নি।”

অন্যদিকে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ম্যারাডোনা প্রাকৃতিকভাবেই মারা গেছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি এক পর্যায়ে চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল বলেই এই মৃত্যু।

আদালতে উপস্থিত ছিলেন ম্যারাডোনার তিন মেয়ে এবং সাবেক সঙ্গিনী ভেরোনিকা ওজেদা। ওজেদা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুধু ডিয়েগোর জন্য ন্যায়বিচার চাই। বিচার পেলে ডিয়েগোর আত্মা শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবে।”

আদালতের বাইরে কয়েকশ ভক্ত আর্জেন্টিনার পতাকা ও ‘D10s’ (ডিয়েগো এবং ঈশ্বর শব্দের সমন্বয়) লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।

১২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এই মামলার রায় আগামী জুলাই মাসে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।