জেনারেটর চালাতে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ নেই সাত উপজেলা হাসপাতালে
সংগৃহীত ছবি
ইরান আমেরিকা যুদ্ধে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে দেশে লোডশেডিং চলছে। লোডশেডিংয়ের কবল থেকে বাদ যায়নি রংপুর। শনিবার সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত বার বার লোডশেডিং হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলা হাসপাতালের রোগীরা।
লোডশেডিং হলে জেনারেটর চালাতে গত ১০ বছর ধরে কোনো প্রকার জ্বালানি তেলের বরাদ্দ পাচ্ছে না রংপুরের সাত উপজেলা হাসপাতাল। বর্তমান জ্বালানি তেল সংকট কালে তেলের বরাদ্দ পাওয়াও অনিশ্চিত। ফলে ভোগান্তি নিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা।
রংপুর জেলায় ৮টি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলা বাদে ৭টি উপজেলাতেই রয়েছে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দশ বছর আগে বিদ্যুৎ না থাকলে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো জেনারেটর মাধ্যমে চলত। জেনারেটরগুলো চালু করতে তেলের বরাদ্দ নেই কমপক্ষে ১০ বছর থেকে। জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের রোগী চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের। ফলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া আছে জেনারেটর। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থায় হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য এসব জেনারেটর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আনুমানিক ১০ বছর আগে জেনারেটরের তেলের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়।
এমনও শোনা গেছে রোগীর অপারেশন চলছে ওই সময় বিদ্যুৎ চলে গেল। তখন মাঝ পথেই অপারেশন থামিয়ে দিতে হয়। না হলে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে তেলের টাকা নিয়ে জেনারেটর চালু করতে হয়। এটি মারাত্মক ঝুঁকি হলে চিকিৎসক এবং রোগী দুই পক্ষই অসহায়।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর রোগী খালেদা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ফ্যান-লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারে ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এমওডিসি (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হালিম লাবলু বলেন, জেনারেটর যেটি আছে, সেটি জ্বালানি তেলের অভাবে বিকল হয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটর চালু করা যায় না। একই অবস্থা অন্য সাত উপজেলায়। বর্তমানে তাপপ্রবাহের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। জেনারেটর চালু করতে না পারায় অপারেশন, ইসিজি, আল্ট্রাস্নোগ্রাম, এসিসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে।
লোডশেডিংয়ের সময় অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থার পাশাপাশি রাতেও কখনো কখনো অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে। এছাড়া অব্যবহৃত অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কোনো কোনো হাসপাতালের জেনারেটর বিকল হয়ে পড়েছে এমনটা শোনা যাচ্ছে।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা.শাহীন সুলতানা বলেন, রংপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর চালানোর জন্য সরকারিভাবে তেলের বরাদ্দ নেই। তাই জেনারেটর থাকলেও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছেনা। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।