নববর্ষে জবিতে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজন
ফাইল ছবি
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও উৎসব। আগামী ১৪ ও ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে এ উৎসব উদযাপিত হবে। আয়োজনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে, বিশেষ করে চারুকলা অনুষদে চলছে শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শোভাযাত্রার কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির আদলে তৈরি শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বিশাল আকৃতির রঙিন পাখি। পাশাপাশি চরকি, সূর্যমুখী ফুল, ফড়িং, পাখিসহ দেশীয় ঐতিহ্যের নানা উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে, যা শোভাযাত্রাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলার পাশাপাশি শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত এবং কনসার্টসহ নানা আয়োজন থাকবে। উৎসবকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
জকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিম আহমেদ জানান, পহেলা বৈশাখের মূল আয়োজনের পাশাপাশি বিকেল ৪টায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী। এছাড়া উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে বিভিন্ন দলের রিহার্সালও চলছে। ইতোমধ্যে দুটি দল তাদের অনুশীলন শেষ করেছে এবং আরও একটি দল প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে তাকরিম আহমেদ বলেন, “আয়োজন প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবার বৈশাখ উদযাপন আরো প্রাণবন্ত হবে।” তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী এবার নতুন কিছু আয়োজন যুক্ত করা হয়েছে, যা উৎসবের আনন্দ বাড়াবে।
সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলার নির্ধারিত স্থানগুলোও পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বজলুর রশীদ খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং নির্ধারিত কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কুবিতে ৭০টি আসন ফাঁকা, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের তিনটি ইউনিটে এখনো প্রায় ৭০টি আসন ফাঁকা রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি সম্পন্ন করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে ২০টি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ৩২টি এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে ১৭টি আসন বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। তিন ইউনিটের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভর্তি বাতিলের কারণে ফাঁকা আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “বর্তমানে কিছু আসন ফাঁকা রয়েছে এবং সামনে কেউ ভর্তি বাতিল করলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সব ইউনিটের তথ্য সমন্বয় করে আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল সাক্ষাৎকারের জন্য শিক্ষার্থীদের ডাকা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল চতুর্থ মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর পর ১২ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে।