ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের যাত্রা শুরু
সংগৃহীত ছবি
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্যের মধ্যেই ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ নিয়ে সামনে এলো ফর্টিস গ্রুপ। রাজধানীর জলসিঁড়ি এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাব, যা অশ্বারোহী খেলাধুলার বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে অলিম্পিক গেমসে ইকুয়েস্ট্রিয়ান ইভেন্ট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও বাংলাদেশে এই খেলা এতদিন ছিল অবহেলিত। সেই বাস্তবতা বদলাতেই ফর্টিস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাব’।
প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি ভারতীয় ঘোড়া দিয়ে ক্লাবটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় উন্নত জাতের ঘোড়া আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হর্স পোলো চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ)-এর সমর্থন পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহাদাত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
অথচ ঘোড়ায় চড়া ও হর্স পোলো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। দেশে এসব খেলায় কোনো কাঠামোগত চর্চা নেই বললেই চলে। নতুন প্রজন্মকে ভিন্নধর্মী খেলায় সম্পৃক্ত করতেই এই উদ্যোগ।”
তিনি জানান, ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি ও তা টেকসই করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশে ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলাধুলার যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে, যখন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর দেশের প্রথম সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি।
ফর্টিসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দেশে আরো ক্লাব ও ব্রিডিং ফার্ম গড়ে উঠবে বলে আশা করছি।
” বিইএর সহসভাপতি ও পেশাদার রাইডার তাহিয়া ইসলাম বলেন, “অশ্বারোহী খেলা শারীরিকভাবে যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি মানসিকভাবেও প্রশান্তিদায়ক। দীর্ঘদিন এই খেলা অবহেলিত ছিল। আমরা চাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে।”
এতদিন ফুটবলকেন্দ্রিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত ফর্টিস গ্রুপ এখন নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়ায় বৈচিত্র্য আনতে চায়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একসময় অশ্বারোহী খেলাতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে বাংলাদেশ।