বিচ গেমসে কাবাডি পদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য
ছবি: সংগৃহীত
২০০৮ সালে এশিয়ান বিচ গেমসের যাত্রা শুরু। ২০১৬ সালে পঞ্চম আসরের পর আর এটি গড়ায়নি। দশ বছর পর চীনের সানিয়া শহরে এটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ছয়টি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ করবে। আজ বিকেলে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাবাডি নারী ও পুরুষ দলের উপরই পদকের প্রত্যাশ্যা এসেছে ঘুরেফিরে।
এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব)। তিনি গেমসে বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিচ গেমসের প্রথম তিন আসরে কাবাডি থেকে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম আসরে কাবাডি ছিল না। এই গেমসে আবার কাবাডি সংযুক্ত হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশাও বেশি কাবাডিকে ঘিরে।’
কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ সোহাগ কাবাডির প্রস্তুতি নিয়ে বলেন, ‘আমরা এই গেমসের জন্য ৮০ দিনের একটি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। যেটা আগামীকাল সম্পন্ন হবে। নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগে আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট। বিশ্বকাপেও আমাদের নারী দলক পদক জিতেছে ফলে এখানে আমরা প্রত্যাশা করি।’
এশিয়ান বিচ গেমসে কাবাডির একটি ড্র হয়েছিল। সেই ড্র নিয়মানুসারে না হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে আরেকটি ড্র করে নতুন ফিকশ্চার হয়েছে। যা অনেকটাই বাংলাদেশের অনুকূলে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন গেমসের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব)।
কাবাডির পাশাপাশি ভলিবল ও হ্যান্ডবল গেমসে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ ভালো ফলাফলের আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা মালদ্বীপে বিচ কমনওয়েলথ হ্যান্ডবলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিলাম। এশিয়ান বীচের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, আশা করছি ইতিবাচক ফলাফলের।’
বীচ রেসলিং তিন মিনিটের খেলা। বাংলাদেশের দুই জন পুরুষ কুস্তিগীর অংশগ্রহণ করছেন। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও গেমসে কুস্তি দলের কর্মকর্তাও মৃদুভাবে পদকের আশা দেখিয়েছেন। ওপেন ওয়েটার সুইমিংয়ে একজন পুরুষ সাঁতারু এই গেমসে অংশগ্রহণ করবেন। গেমসের উদ্বোধনী মার্চ পাস্টে বাংলাদেশ দলের পতাকা বহন করবেন হ্যান্ডবল খেলোয়াড় রবিউল ও অ্যাথলেটিক্সের সুমাইয়া দেওয়ান। সমাাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে বাংলাদেশ ভলিবল দলের অধিনায়ক হরসিৎ বিশ্বাসের কাছে।
গেমস শুধু পদক নয়, শৃঙ্খলা-ভাতৃত্ব বন্ধনেরও বিষয়। বিগত সময়ে অনেক গেমসে বাংলাদেশের ম্যানেজার-কোচরা বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি আসার পর এটিই প্রথম গেমস। এই গেমসের শেফ দ্য মিশন শৃঙ্খলার ব্যাপারে বলেন, ‘কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত। এরপরও আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করব।’
এই গেমসে প্রশিক্ষণের জন্য বিওএ ২ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। অংশগ্রহণ ও সর্বসাকুল্যে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়। অলিম্পিক এসোসিশেয়ন এই ব্যয় বহন করেছে আপাতত, তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে। ছয় ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ৩১ , কর্মকর্তা ১০। এর বাইরে আরো ১৪ জন রয়েছেন কন্টিনজেন্টে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ক্রীড়া আমিনুল এহসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'যে ছয়টি ডিসিপ্লিন অংশগ্রহণ করছে সেগুলো নিশ্চয়ই বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে। ছয় ডিসিপ্লিন নিয়েই আমাদের প্রত্যাশা থাকছে। গেমস থেকে আসার পর কি পেলাম, কেন পেলাম না, কি করলে পাওয়া যাবে এই আলোচনা হতে পারে।' জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালকের সঙ্গে একমত পোষণ করে শেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদ গেমস থেকে আসার পর তার রিপোর্ট নিয়ে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।