অ্যাডভেঞ্চার নয়, পুরো হরর— এই ‘দ্য মমি’ অনেক আলাদা!

অ্যাডভেঞ্চার নয়, পুরো হরর— এই ‘দ্য মমি’ অনেক আলাদা!

ফাইল ফটো

হলিউডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য মমি’-ছিল এই প্রজন্মের অন্যতম নস্টালজিয়া। শোনা যাচ্ছিল এর চতুর্থ কিস্তির আসার কথা। এমন খবরের মাঝে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য মমি’। তবে যদি ভেবে থাকেন এটা একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ, তাহলে ভুল! কারণ, নামের সঙ্গে মিল থাকলেও আদতে এটি সম্পূর্ণ ভৌতিক ঘরানার সিনেমা; যেখানে অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ‘দ্য মমি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে মিল নেই।

সদ্য মুক্তি পাওয়া এই হররধর্মী এই সিনেমা এখন প্রদর্শিত হচ্ছে দেশের প্রেক্ষাগৃহেও। আইরিশ নির্মাতা লি ক্রোনিন নির্মিত এই সিনেমাটির স্টার সিনেপ্লেক্সে বেশ কয়েকটি শো শুরু হয়েছে মুক্তির দিন থেকেই। দেশের দর্শকদের কাছ থেকে এই সিনেমার এখনও কোনো তেমন রিভিউ পাওয়া না গেলেও ইতোমধ্যে গার্ডিয়ান, দ্য হলিউড রিপোর্টারের মতো শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এর রিভিউ পাওয়া গেছে। তা অবলম্বনেই কিছুটা তুলে ধরা হবে এই প্রতিবেদনে। 

হরর সিনেমাগুলো সাধারণত কিছুটা ছোট দৈর্ঘের হলেও ‘দ্য মমি’র ডিউরেশন কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। গার্ডিয়ানের রিভিউতে বলা হয়েছে, এটি দর্শকদের মাঝে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আবার হলিউড রিপোর্টারের রিভিউতে বলা হয়েছে, পরিচালক লি ক্রোনিন চরিত্রের গভীরতা বা গল্পের স্বচ্ছতার চেয়ে রক্তারক্তি এবং শরীরের বীভৎসতা দেখাতেই বেশি সময় ব্যয় করেছেন।

সিনেমার গল্পে বেশ চমক রাখা হয়েছে। ‘দ্য মমি’ সিনেমায় গল্পটি এক সাংবাদিক বাবা ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করে। একসময় তারা সুখী পরিবার ছিল। সেই পরিবারের কেটি নামের এক ১৬ বছরের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়; আট বছর পর পাওয়া যায় মরুভূমিতে একটি দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের মধ্যে। পরিবার তাকে ফিরে পেয়ে খুশি হলেও দ্রুতই সেই আনন্দ আতঙ্কে রূপ নেয়। কারণ তার চালচলন ছিল প্রায় মৃত মানুষের মতো। 

এরপর কেটির আচরণ হয়ে ওঠে ঠাণ্ডা ও রহস্যময়; সে লৌকিক জগতের বাইরের অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা শুরু করে। ধীরে ধীরে তার শরীরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে থাকে,যা দেখে মনে হতে থাকে, সে আর সাধারণ মানুষ নেই, বরং কোনো এক প্রাচীন অশুভ শক্তি তার শরীর দখল করে নিয়েছে।

ভীতিকর ও নৃশংস দৃশ্য থাকায় সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে ‘আর’ (রেস্ট্রিকটেড) রেটিং পেয়েছে। অর্থাৎ ১৭ বছরের কম বয়সী দর্শকদের জন্য এটি দেখার উপযোগী নয়। মূলত ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ কিংবা ‘হেরিডিটরি’র মতো মনস্তাত্ত্বিক ভীতি ও হাড়হিম করা শারীরিক নৃশংসতার এক অনন্য মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে এই মমি-তে।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে সিনেমাটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ছিলেন হরর মাস্টার জেমস ওয়ান এবং জেসন ব্লামের মতো খ্যাতনামা প্রযোজকরা। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই, নাটালি গ্রেস ও ভেরোনিকা ফ্যালকনসহ আরও অনেকে। ক্লাসিক ‘মমি’ চরিত্রটিকে লি ক্রোনিন যেভাবে আধুনিক ও ভয়ংকর পারিবারিক আবহে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।