পজিটিভ প্যারেন্টিং কী? যেভাবে মেনে চলবেন
ফাইল ফটো
পজিটিভ প্যারেন্টিং হলো সন্তানের সঙ্গে একটি দৃঢ় ও যত্নশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। এর অর্থ হলো দয়া ও সম্মানের সঙ্গে স্পষ্ট, ধারাবাহিক এবং বয়স-উপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা। এর মধ্যে অভিভাবকত্বের ভূমিকা ভাগ করে নেওয়াও অন্তর্ভুক্ত। আপনি মা, বাবা বা তত্ত্বাবধায়ক যেই হোন না কেন, একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করা। এটি শিশুদের তাদের দৈনন্দিন জীবনে সমতা ও সম্মানের মূল্য শিখতে সাহায্য করে।
পজিটিভ প্যারেন্টিং আপনার সন্তানকে নিরাপদ এবং সহজ বোধ করতে সাহায্য করে। এটি তার স্বাধীনতা বিকাশে এবং আপনার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত বোধ করতেও সাহায্য করে। পজিটিভ প্যারেন্টিং- এর জন্য আপনাকে কী করতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১. কখনোই সহিংসতা ব্যবহার করবেন না
আঘাত করা বা শারীরিক শাস্তি ভয়, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে। শিশুদের বিরুদ্ধে বা একে অপরের বিরুদ্ধে কখনোই সহিংসতা ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে শাস্তি না দিয়ে, শিশুদের শেখানোর জন্য শান্তভাবে অনুশাসন ব্যবহার করুন।
২. ভয় দেখানোর পরিবর্তে নির্দেশনা দিন
ভয় দেখানো হয়তো স্বল্পমেয়াদে খারাপ আচরণ বন্ধ করতে পারে, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদী কোনো শিক্ষা দেয় না। ভয় দেখানো শিশুদের আত্মসম্মানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর পরিবর্তে, শান্তভাবে নির্দেশনা দিয়ে আপনার সন্তানকে স্থায়ী শিক্ষা দিন, যার মধ্যে একটি হলো প্রতিটি কাজেরই পরিণতি আছে।
৩. লিঙ্গভিত্তিক গতানুগতিক ধারণা ভাঙুন
“ছেলেরা কাঁদে না” বা “এটা মেয়েলি নয়”-এর মতো কথা বলা এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে তাদের শেখান যে প্রত্যেকেই যত্নশীল, শক্তিশালী এবং সক্ষম হতে পারে। বাড়ির কাজ ন্যায্যভাবে ভাগ করে নিন এবং গতানুগতিক ধারণা ভাঙা বই পড়তে দিন।
৪. স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন
শিশুদের প্রকৃত সংযোগ প্রয়োজন। জীবন যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন, আপনার উপস্থিতি এবং মনোযোগ একটি ভিডিও বা গেমের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। আপনার সন্তানদের আশেপাশে স্ক্রিন ব্যবহার করা এবং তাদের স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে, যখনই সম্ভব একসঙ্গে খেলাধুলা এবং কথোপকথনে অংশ নিন।
৫. মনোযোগী হোন
আপনার সন্তানের নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তাদের আপনাকে প্রয়োজন। একটু ধীরে চলুন এবং সেই ছোট ছোট, অর্থপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে অংশ নিন যা তার শৈশবকে গড়ে তোলে। দিনে একসঙ্গে কাটানো ১০ মিনিট আন্তরিকতার এক বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। এটি হতে পারে ডায়াপার বদলানো, গোসল করানো বা আপনার দৈনন্দিন কাজের অন্য কোনো অংশ। আপনার সন্তানের সঙ্গে মন দিয়ে উপস্থিত থাকতে, খেলতে এবং সংযোগ স্থাপন করতে সময় নিন।
৬. একটি দৃঢ় বন্ধন গড়ে তুলুন
শুধু শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, শিশুদের মানসিক সংযোগও প্রয়োজন। প্রতিদিন তাকে জড়িয়ে ধরুন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন, তার কথা শুনুন এবং তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন।
৭. প্রতিবন্ধী শিশুদের ওপর বিশ্বাস রাখুন
আপনার সন্তানের যদি প্রতিবন্ধকতা থাকে, তবে অন্য যেকোনো শিশুর মতোই তাদের প্রতি একই রকম ভালোবাসা ও সম্মান দেখান।
আপনার সন্তানের সঙ্গে খেলুন এবং তাকে অন্বেষণ ও শেখার সুযোগ তৈরি করে দিন। শেখাকে মজাদার ও সহজলভ্য করতে শব্দ, ছবি বা এমন উপকরণ ব্যবহার করুন যা তারা স্পর্শ করে অনুভব করতে পারে। প্রতিবন্ধী শিশুরা সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে তাদের সমবয়সীদের সঙ্গে বেড়ে উঠতে, স্কুলে যেতে এবং উন্নতি করতে পারে।
৮. ইতিবাচক আদর্শ হোন
শিশুরা আপনাকে দেখে অনেক কিছু শেখে। একটি পরিবার হিসেবে আপনারা প্রতিদিন যা করেন, বলেন এবং আচরণ করেন, তা থেকে তারা শেখে। পরিবারের প্রত্যেকের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করুন এবং সহিংসতা বা চিৎকার করা থেকে বিরত থাকুন। বাড়ির কাজগুলো ভাগ করে নিন যাতে সবাই সাহায্য করতে পারে। রান্না, পরিষ্কার করা এবং বাচ্চাদের দেখাশোনার দায়িত্ব শুধু একজনের উপর পড়া উচিত নয়।