কেকেআরের কোচ হবেন ম্যাককালাম!
ছবি: সংগৃহীত
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) শুরুটা হয়েছে বাজে। এরই মাঝে মাঠের বাইরে এক নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন এক সাহসী ভবিষ্যদ্বাণীতে জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমেই ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কেকেআর-এর প্রধান কোচ হিসেবে ফিরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পিটারসেন এই দাবি করে ভক্তদের বলেছেন তার টুইটটি "বুকমার্ক" করে রাখতে। তার এই মন্তব্যে কেকেআর-এর ম্যানেজমেন্টে বড় পরিবর্তনের গুঞ্জন এখন তুঙ্গে।
দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য এবারের মৌসুমটি এখন পর্যন্ত এক দুঃস্বপ্নের মতো কাটছে। প্রথম ছয় ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পণ্ড হওয়া ম্যাচ থেকে পাওয়া এক পয়েন্টই এখন পর্যন্ত তাদের একমাত্র অর্জন। গত শুক্রবার শুভমান গিলের গুজরাট টাইটানসের কাছে হারটি দলের অসহায়ত্বকে আরও প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে এবং বর্তমান প্রধান কোচ অভিষেক নায়ারের ওপর চাপ বাড়ছে এবং অনেক ভক্তই তাদের অপসারণের দাবি তুলছেন।
গুজরাটের বিপক্ষে হারের পরপরই পিটারসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "আগামী মৌসুমে কেকেআর-এর কোচ হবেন বাজ (ম্যাককালাম)। এই টুইটটি সেভ করে রাখুন।" তার এই পোস্টটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় এবং ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে যে, তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের ভাগ্য বদলাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কি আবারও নিউজিল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়কের দিকেই ঝুঁকবে?
কেকেআর-এর জার্সির সঙ্গে ম্যাককালামের সম্পর্ক অনেক পুরনো। ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৫৮ রানের সেই বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি এই টুর্নামেন্টের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেকেআর-এর প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার আগ্রাসী "বাজবল" দর্শনের ছাপ রাখেন। যদিও সেই সময় তার সাফল্য ছিল অম্লমধুর, কিন্তু একজন রূপান্তরকারী কোচ হিসেবে তার খ্যাতি এখনও অমলিন।
পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা নাইট রাইডার্স ম্যানেজমেন্ট এখনই কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে নাকি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে পিটারসেনের এই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণীর পর ম্যাককালামের নাম এখন সবার মুখে মুখে। যদিও বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, তবে আইপিএল ২০২৭ মৌসুমের আগে পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।