বরিশালে বৈশাখী মেলায় ঐতিহ্যবাহী ‘গাজী কালুর গীত’
সংগৃহীত
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মোহনগঞ্জ বাজারে বৈশাখী মেলাকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘গাজী কালুর গীত’। বাংলা নববর্ষের আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এই লোকজ পরিবেশনা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে গ্রামের নারী দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনভর বৈশাখী মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে সন্ধ্যার পর শুরু হয় ‘গাজী কালুর গীত’। ঢোল, করতাল ও বাঁশির সুরে পরিবেশিত এই গীতিনাট্যে তুলে ধরা হয় গ্রামীণ জীবনের নানা গল্প, বীরত্বগাথা ও লোককাহিনী। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
স্থানীয় আয়োজক রাজিব হোসেন জানান, বৈশাখী মেলাকে প্রাণবন্ত করতে এমন লোকজ সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এবার আবার এই আয়োজন ফিরে এসেছে।
বরিশাল সদর উপজেলা থেকে আসা মোস্তফা কাজী বলেন, গাজী কালুর গীত শুধু বিনোদন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশ। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে এবং সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
স্থানীয় শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, একসময় বৈশাখী মেলা উপলক্ষ্যে গ্রামে হাডুডু, লাটিম খেলা, লাঠিখেলা, জারিগানসহ নানা আয়োজন হতো। এখন আর সেগুলো তেমন দেখা যায় না। অনেকদিন পর গাজীর গীত দেখে ভালো লাগছে। অনেক মানুষ এই লোকসংগীত দেখতে এসেছেন।
মেলায় গ্রামীণ খেলাধুলা ও বিভিন্ন পণ্যের দোকানও ছিল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে সবকিছুর মধ্যেই ‘গাজী কালুর গীত’ ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত আয়োজন।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ওবায়দুল হক বলেন, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকলে লোকজ সংস্কৃতি আরও বিস্তৃতভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, 'গাজী কালুর গীত বা গাজী-কালু পীরের বন্দনা' বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ও কিচ্ছাপালা। এতে গাজী পীর ও তার সঙ্গী কালুর মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়। বরিশাল, ফরিদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বাগেরহাট অঞ্চলে এই গীত জনপ্রিয়। এতে গাজী ও কালুর অলৌকিক কাহিনী, চম্পাবতী উপাখ্যান এবং বাঘের পিঠে চড়ে বনভ্রমণের মতো রোমাঞ্চকর বর্ণনা পালাগানের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়।