চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে মাধবপুরবাসী
ফাইল ছবি
চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে হবিগঞ্জের মাধবপুরে। গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎবিহীন। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার জনজীবন।
এদিকে, জ্বালানি তেলের সংকটে শ্যালো মেশিনগুলো চলতে না পারায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে কৃষকদের।
তবে লোড শেডিংয়ের কারণে এতেও আস্থা হারাচ্ছে কৃষকরা।
বেজুড়া গ্রামের কৃষক জালাল মিয়া বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকছে না। এতে সেচ পাম্পগুলোও চালাতে পারছেন না তারা। পানির অভাবে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাহত হতে পারে।
চলমান প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।
মনতলা সরকারি শাহজালাল কলেজ থেকে আগামী উচ্চ মাধ্যামিক পরীক্ষার্থী পুষ্পিতা ইসলাম বলেন, আগামী ৭ জুন আমাদের পরীক্ষা শুরু।
কলেজে কোচিং আর বাসায় প্রস্তুতি কোনোটাই ঠিকমতো করতে পারছি না। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কোনো কোনো দিন মাঝরাত পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়। জীবন যেন অচল হয়ে যাচ্ছে।
মাধবপুর সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ডিগ্রি মহাবিদ্যাল থেকে পরীক্ষার্থী জাকিয়া আক্তার জলি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আধুনিক যুগে এসে গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা ২০ বছর আগের মতো জীবনযাপন করছি।
রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে মোমবাতি দিয়ে পড়তে হচ্ছে। দিনের বেলায় গরম থেকে জীবন বাঁচাতে গাছতলায় বাতাসের জন্য বসে থাকি। মাঝে মধ্যে বৃষ্টিই যেন আমাদের গরমে স্বস্তিতে রাখার একমাত্র ভরসা।
উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের অবস্থা যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। ভ্যাপসা গরমে তারা আরো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১১৪.৬১ বর্গমাইলের উপজেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৩২ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহ থেকে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট, যা চাহিদার অর্ধেকের চেয়ে কম। চাহিদামতো প্রাপ্তি না থাকায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের মূল কারণ বলে দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের।
১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার এ উপজেলায় মোট গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজারের মতো। বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে সাশ্রয়ী হতে হবে।
হবিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইউছুব আলী গ্রাহকরা সচেতন হলে বিদ্যুতের ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে।