তিতাসে দেশের ইতিহাসে প্রথম গভীর কূপ খনন, দিনে মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

তিতাসে দেশের ইতিহাসে প্রথম গভীর কূপ খনন, দিনে মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে শুরু হয়েছে দেশের ইতিহাসে প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন। এটি সম্পন্ন হলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। যা জ্বালানি খাতে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার বুধল এলাকায় এ কূপের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদনে থাকা ২২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে মজুত এবং চাপ কমেছে। এতে করে উৎপাদনও কমে গেছে। এ অবস্থায় গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প নেয় বিজিএফসিএল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে খনন করা হচ্ছে দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় তিতাসের নতুন কূপটি খননে সময় লাগবে প্রায় ৭ মাস। খনন কাজ করছে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্পের অংশ হিসেবে তিতাস-৩১ কূপটি খনন করা হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক ২১০ দিন সময় লাগবে।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর একই প্রকল্পের আওতায় তিতাস ফিল্ডে ‘তিতাস-২৮, ২৯ ও ৩০’ এবং গাজীপুরের কামতা ফিল্ডে একটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্প থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু তিতাস-২৮ কূপ থেকেই প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাসসহ বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরেনানো কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করতে পারলে এটি জ্বালানি খাতের জন্য মাইলফলক হবে। সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ.কে.এম মিজানুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় তিতাসের এই গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্দেশ্য সফল হলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক, কোম্পানি সচিব মোজাহার আলী, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব, খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মি. লাইলিনজেন্টসহ বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।