‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ মডেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে পুলিশ

‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ মডেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে পুলিশ

সংগৃহীত ছবি

রাজধানী ঢাকায় ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট মডেল’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন সম্মত হলেও আগে একটি সম্ভাব্যতা পরীক্ষা (ফিজিবিলিটি টেস্ট) করার সুপারিশ করেছেন। এই মডেলের লক্ষ্য দীর্ঘদিনের যানজট দূর করা এবং বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক করা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মহানগরের ১০৫ কিলোমিটার সড়কে ‘জিরো সিগন্যাল’ ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা চালাবে পুলিশ। গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিগন্যাল ম্যানেজমেন্ট মডেল টেকনিক্যাল সাব-কমিটির আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে অংশ নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, বুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খান। বৈঠকে স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো হলো- রাজধানীর প্রস্তাবিত ১০৫ কিলোমিটার ‘জিরো সিগন্যাল’ সড়ক ছাড়া বাকি সড়কগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক লাইট ও সিগন্যাল চালু করা হবে।

এ ছাড়া দিনের বেলায় কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া মধ্যমেয়াদি বাস্তয়নের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা শহরের ১০৫ কিলোমিটার  রাস্তায় জিরো সিগনাল সিস্টেম স্থাপনের নিমিত্তে ফিজিবিলিটি টেস্ট করতে হবে। এর মাধ্যমে শহরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরবার কানেকটিভিটি তৈরি করা হবে। সিটি সার্ভিস চালু করা এবং একক কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস পরিচালনা; আন্তঃজেলা বাস রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হভে  নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপেজ স্থাপন এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা; সিসিটিভির মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ; রিকশা ও ধীরগতির যানবাহনকে স্থানীয় সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা; পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ; ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু করা এবং বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট মডেল’ চালু হলে কোনো ধরনের সিগন্যাল ছাড়াই চলবে সব ধরনের গাড়ি। পুরো শহরে থাকবে না কোনো যানজট। এতে করে কর্মঘণ্টা ও জ্বালানির অপচয় রোধ হবে। 

জানা যায়, প্রস্তাবিত মডেলে রাজধানীর পাঁচটি প্রধান মহাসড়ককে ১০৫ কিলোমিটার জুড়ে এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ৩৭টি অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এই ৩৭টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ১৬টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস, ১৩টি ‘ইউ-লুপ’ ওভারপাস, সাতটি ওভারপাস/আন্ডারপাস ইন্টারচেঞ্জ সার্কেল এবং একটি ‘ইউথ ইউ-লুপ’ ইন্টারচেঞ্জ।

ইনোভেশন টিমের হিসাবে, পুরো মডেল বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ইনোভেশন টিম ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট মডেল’ প্রণয়ন করেছে। গত ৩১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক বৈঠকে এই মডেল নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী ১২ এপ্রিল ও সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সিগনাল ম্যানেজমেন্ট মডেল টেকনিক্যালের সাব-কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ হাককানী জানান, তারা বৈঠকের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করবেন।