দিনাজপুরে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট
প্রতিকি ছবি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ওয়ালেদা খাতুন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ঘোড়াঘাট উপজেলার পূর্ব পালশা গ্রামে বৃদ্ধার নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে জানান ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, ছোট মেয়ে রহিমা বেগমকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন ওয়ালেদা খাতুন। তার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা সবাই আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন এবং বড় মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। ছোট মেয়ে রহিমা বেগম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিদেশে যান।
৬ বছর প্রবাসে থাকার পর ছয় মাস আগে দেশে ফিরে মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এবং স্কচটেপ দিয়ে বৃদ্ধা ওয়ালেদা খাতুনের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে।
ঘটনার সময় ছোট মেয়ে রহিমা বেগম বাড়ি থেকে দূরে ডুগডুগি বাজারে তার কাপড়ের দোকানে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি তার মায়ের শরীর কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কাপড় সরিয়ে দেখেন, মুখে স্কচটেপ লাগানো, গলায় গামছা পেঁচানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন আসেন। পরে বাড়ির ভেতর একটি কক্ষে থাকা আলমারির জিনিসপত্র ও কাপড় এলোমেলোভাবে মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় দেখতে পান।
প্রতিবেশীরা থানায় খবর দিলে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ রাতে মরদেহটি হেফাজতে নেয়।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকারীকে সনাক্তকরণে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। নিহতর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃদ্ধার মরদেহ ময়নাতদন্তে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।