গণঅভ্যুত্থানের নারীদের অর্জন সংরক্ষণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা, তাদের অবদান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেছেন, আন্দোলনের অর্জন ধরে রাখতে হলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের প্রতি রাষ্ট্রকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) “জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায় : জুলাই কন্যাদের অবদান এবং করণীয়” শীর্ষক এ সভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জন টিকিয়ে রাখতে হলে সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জুলাই কন্যারা এই আন্দোলনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। তারা মাঠে-রাজপথে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছে, ভবিষ্যতের রাষ্ট্র গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আগামী দিনে নারীদের নেতৃত্ব গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হলেও আমি অবাক হব না। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিজ দলের নারী সহকর্মীদের প্রতি উদার ও সহনশীল হতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, জুলাই কন্যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র তাদের আকাঙ্ক্ষার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে এবং দখলদার রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।
সামিয়া মাসুদ মম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এখন পুরনো বন্দোবস্তের আদলে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করে শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং নিরাপদ, সহাবস্থানের ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে।
জুলাই কন্যা নীলা আফরোজ বলেন, জুলাই কন্যাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা শুধু স্বীকৃতিই নয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের স্বীকৃতি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।